আওয়ামী লীগের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহ-সভাপতি ডঃ রাব্বী আলম ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরচ্ছেন। সেই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে পরামর্শ দিয়েছেন, তিনি যেখান থেকে এসেছেন সেখানেই যেন ফিরে যান। এই সাক্ষাৎকার নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ভারতের প্রায় সমস্ত প্রথম শ্রেনির সংবাদ মাধ্যম ফলাও করে প্রকাশ করেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কে এই রাব্বী আলম? কেন তাঁর কথা এত গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম?
ডঃ রাব্বী আলম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি করেন না। তাহলে তাঁর কথার গুরুত্ব ঠিক কোথায়? আসলে এই রাব্বি আলম শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের জন্য শক্তিশালী লবি তৈরি করেছেন। ফলে ধরে নেওয়াই যায় রাব্বি আলম ও তাঁর নেতৃত্বে একটা লবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগ রাখছে। আর ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে সেরকমই কোনও ইঙ্গিত পেয়েছেন ডঃ রাব্বি আলম। অপরদিকে যেহেতু তিনি অত্যন্ত হাসিনা ঘনিষ্ট এক নেতা সেহেতু ধরেই নেওয়া যায় ভারত থেকে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন আওয়ামী লীগ নেত্রী। ফলে সেখান থেকেও কোনও বিশেষ ইঙ্গিত পেয়েছেন ডঃ রাব্বি আলম। তাই তিনি খুবই জোরের সঙ্গে দাবি করছেন হাসিনা শীঘ্রই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই দেশে ফিরবেন। ডঃ রাব্বি আলম সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, “আমরা বাংলাদেশের উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে এবং যেখান থেকে এসেছিলেন সেখানে ফিরে যেতে বলতে চাই… শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসছেন”। তিনি আরও বলেন, “তরুণ প্রজন্ম ভুল করেছে, কিন্তু এটা তাদের দোষ নয়, তাদের সঙ্গে কারসাজি করা হয়েছে”।
এই সাক্ষাৎকার ও ভারতীয় মিডিয়ার বিভিন্ন প্রতিবেদন নিয়ে বাংলাদেশী মিডিয়া নানান হাস্যকর দাবি করে চলেছে। কিন্তু ভারতীয় মিডিয়া বরাবরই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে যথেষ্ট সংবেদনশীল। শেখ হাসিনা সম্পর্কে বিগত সাত মাসে ভারত সরকার খুব একটা উচ্চবাচ্য করেনি। এমনকি হাসিনা ঠিক কোথায় আছে সেটাও গোপন রাখা হয়েছে। তাই এরকম একটি স্পর্শকাতর ইস্যুতে প্রথম সারির ভারতীয় মিডিয়া কিন্তু সেরকম কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি এতদিন। মূলত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত সরকারের স্বার্থ রক্ষা করাই ভারতের মিডিয়াগুলি প্রাধান্য দিয়ে আসে। তবে এবার কেন যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগের সহ সভাপতির একটা বক্তব্য এক গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমগুলি? আওয়ামী লীগের বহু নেতাই তো নানা রকমের মন্তব্য করে বাজার গরম করে চলেছে অনবরত। তাহলে ডঃ রাব্বি আলমকে কেন এত গুরুত্ব দিল, টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি বা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মতো তাবড় সংবাদমাধ্যম।
আসলে ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কোনও একটা ছাড়পত্র পেয়েই এএনআই এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে, এবং সেটা গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে। আর এএনআই যখন এই ডঃ রাব্বি আলমের সাক্ষাৎকার গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে, তখন প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমগুলি সেই ইঙ্গিত বুঝতে পেরেছে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন অন্যদিকে ভারত সরকারের সর্বোচ্চ মহল শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটা বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে, সেটা এখন শুধু প্রয়োগ করার অপেক্ষা। আর সেই ইঙ্গিত পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলির কাছে, যে এবার হাসিনার দেশে ফেরা সম্পর্কে খবর প্রচার করা যাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশী মিডিয়া বা উপদেষ্টারা যতই ভারতীয় মিডিয়াকে নিয়ে হাস্যকর সংবাদ প্রকাশ করুক না কেন, আদতে একটা বড় খেলা হবে কয়েকদিনের মধ্যেই।
Discussion about this post