মঙ্গলবার বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট। এই বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার উৎসবের মেজাজ থাকার কথা। কিন্তু তার বদলে একটা ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ রয়েছে বাংলাদেশে। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বলা হচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের থেকেও তিনি কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন শেখ হাসিনা সরকারের। মজার বিষয় হল, ২০২৩ সালে হাসিনা সরকারই অবসরপ্রাপ্ত বিচারক মহম্মদ সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করেছিল। সে সময় বিএনপি সহ সব বিরোধী পক্ষ ওই নির্বাচন বয়কট করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু যে ভাষণ রেকর্ড করা হয়েছে তাতে তিনি কার্যত জুলাই আন্দোলনের পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে কড়া সমালোচনা করেছেন পূর্বতন শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের।
ফলে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতির ভাষণ কি মহম্মদ ইউনুস সরকারের লিখে দেওয়া? নাকি রাষ্ট্রপতি পদে টিকে থাকার জন্য সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নিজেই ডিগবাজি খেলেন? যেমনটা বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ডিগবাজি খেয়েছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বলছেন, বৈষম্য মূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র শ্রমিক জনতা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে ২০২৪ সালের আজকের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল। ঐতিহাসিক এই অর্জনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমি দেশের মুক্তিকামী ছাত্র জনতাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। অথচ, এই এক বছরে বহুবার রাষ্ট্রপতিকে সরানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা হয়েছে বাংলাদেশে। এমনকি বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে চূড়ান্ত হেনস্থা করেছে ছাত্র জনতার একাংশ। যা বাংলাদেশের গণমাধ্যমেও উঠে এসেছিল। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ ভোটাধিকারহরণসহ সব ধরনের অত্যাচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ। তিনি আরও বলেন, এই বৈষম্য মূলক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য।
প্রশ্ন হল, বাংলাদেশে কী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে? এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি গণতন্ত্রের প্রতীক? তারা তো অনির্বাচিত একটি সরকার, প্রশ্ন উঠছে এই সরকারকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ লিখে দিতে পারে? বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহালমহল মনে করছে, রাষ্ট্রপতির লিখিত ভাষণে বারবার উঠে এসেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাইয়ের চেতনা। আর তাঁর ভাষণে বারবার এসেছে ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রসঙ্গ, অর্থাৎ যে নামে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারকে আখ্যা দেওয়া হয়। এখানেই বোঝা যাচ্ছে এই ভাষণ কে বা কারা লিখে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে।
যেমন তাঁর ভাষণে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই সংস্কারের মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানের আশাকআকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে। প্রকৃত গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ। রাষ্ট্রপতির কথায়, এটাই নাকি তাঁর প্রত্যাশা। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির ভাষণ যে তাঁর নিজের বক্তব্য, তার কোনও প্রমাণ নেই।
সবচেয়ে বড় বিষয় হল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু তাঁর ভাষণে কোথাও শেখ হাসিনার নাম করেননি। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের আগের পরিস্থিতির কঠোর নিন্দা করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি হাসিনার শাসনকেই নিশানা করেছেন। এটা একটা তাৎপর্য দিক। বিগত এক বছরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি খুব বেশি সক্রিয় ছিলেন বলে কেউ মনে করেন না। অনেকেই দাবি করেছিলেন, তিনি সাংবিধানিক পদে বসে আছেন তাই তাকে অপসারণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এক বছর পূর্তি উপলক্ষে তার ভাষণে যে ধরনের শব্দ চয়ন উঠে এলো তাতে একটা ব্যাপার পরিষ্কার। এই লিখিত ভাষণ মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের লিখে দেওয়া। কোনও এক অজ্ঞাত কারণে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে এই লিখিত ভাষণ পড়তে হয়।












Discussion about this post