শাসন ক্ষমতার মধু যে কতটা মধু, সেটা একমাত্র তিনিই বুঝতে পারেন, যিনি একবার সে জায়গায় আসীন হয়েছে। এই প্রতিবেদন এমন একজনকে নিয়ে যিনি প্রায় দেড় বছর আগে বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতা দখল করেছিলেন। তিনি ড. মহম্মদ ইউনূস। নানা প্রান্ত থেকে যখন ইউনূসের ওপর ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, সেই সময় তিনি গুনগুন করে বসন্তের গান গাইছেন। তিনি বলেছেন, কেউ তাঁকে বলছেন পারলে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকুন, আবার অনেকে বলছেন, ১০ বছর থাকুন, অনেকে আবার ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকুন। তাঁর এই দাবি যে ভাঁওতা ছাড়া আর কিছুই নয়, সেটা বলে দিচ্ছে একটি প্রতিবেদন।
আওয়ামী লীগকে দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের তরফ থেকে ইউনূসের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। চাপ দেওয়া হচ্ছে দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও। পাশাপাশি একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধ করতে তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে চিঠি লিখেছেন ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা। এই ছটি মানবাধিকার সংস্থা হল সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট, ফর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং টেক গ্লোবাল ইন্সটিটিউট।
চিঠিতে তারা বলেছে, কোনওভাবেই যেন নাগরিকঅধিকার খর্ব না হয়। সেই নাগরিক আওয়ামীপন্থী হতে পারে, হতে পারেন, বিএনপি পন্থী। তিনি যে কোনও দলের সমর্থক হতেই পারেন। কিন্তু প্রতিটি নাগরিকের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার সুরক্ষিত রাখা একটি সরকারের কর্তব্য। চিঠিতে তারা এটাও বলছেন, নির্বাচনের মুখে তদারকি সরকারকে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে যে পরিবেশ বিশ্বকে এই বার্তা দিতে পারে যে দেশটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সক্ষম। মানবাধিকার সংগঠনগুলি ইউনূসকে এটাও বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যাতে কোনওভাবে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে গণমাধ্যমের কর্মীদের বাক স্বাধীনতা। গণমাধ্যমকর্মী এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের যে সব নেতাকর্মীদের সরকার গ্রেফতার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বপক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ করতে হবে। যদি সরকার অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে তাদের মুক্তি দিতে হবে। মানবিধাকার সংগঠনগুলির তরফ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দুই ধরনের সন্ত্রাস চলছে। একটি রাষ্ট্রের মদত, একটি রাষ্ট্র বহির্ভূত। তদারকি সরকারের দায়িত্ব দুই ধরনের সন্ত্রাস রোধে জরুরী পদক্ষেপ করা।
চিঠির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল আওয়ামী লীগকে নিয়ে তদারকি সরকারে জারি করা নিষেধাজ্ঞা। তারা বলেছে, অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। দল যাতে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে, তার জন্য রাস্তা প্রশস্ত করার দায়িত্ব বর্তায় তদারকি সরকারের ওপর। চিঠিতে বলা হয়েছে ‘তদারকি সরকারের তরফে আওয়ামী লীগের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, সেই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার দরকার। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসদমন আইনে যে সব মামলা দায়ের হয়েছে, সেই সব মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। ’ গত অগাস্টের অভ্যুত্থানের আগে এবং পরে যে সব ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে সেই সব মামলা প্রত্যাহার করা জরুরী। এই চিঠি যে ইউনূসকে বাড়তি চাপে ফেলে দিল তা বলাই বাহুল্য।
২০২৪ সালের ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। ওইদিনই শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। ভারতে আশ্রয় নেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের...
Read more












Discussion about this post