প্রায় এক মাসের বেশি হবে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রসাল খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেই খবর হল, তিনি নিজেকে গৃহবন্দী করেছেন। সেই খবর যে ভুয়ো সেটা প্রমাণিত হয়ে গেল কিছুদিন আগে। জেনারেল ওয়াকার গিয়েছিলেন লালমনির হাট এবং ঠাকুরগাঁও। ইতিমধ্যে আমরা জেনে গিয়েছি, কেন তিনি অন্য সব জায়গা বাদ দিয়ে এই দুই জায়গায় গেলেন। এ প্রতিবেদনের সঙ্গে তাঁর একটা মিল রয়েছে।
সেনাপ্রধান ওয়াকারের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭-য়ের ২২ জুন। ততদিন তিনি ওই পদে থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে। কারণ, জামায়াত তাঁকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে ফেলার একটা ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছে। সূত্রের খবর তেমনই। তারা চাইছে, বাহিনীর প্রধান করা হোক এমন একজনকে যিনি তাদের ইয়েসম্যান হবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নাম ইতিমধ্যে ঘোরাঘুরি করছে।
জামায়াতের প্রথম টার্গেট ক্ষমতার রাশ হাতে নেওয়া। সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের সাফল্য বেশ নজর কাড়ার মতো। দল হিসেবে তারা একেবারেই নতুন। অথচ বিএনপি তাদের থেকেও পুরনো একটা দল হওয়া সত্ত্বেও তারা কিন্তু ছাত্রভোটে তেমন নজর কাড়তে পারেনি। বলা ভালো, ছাত্রভোটে তারা রীতিমতো ধরাশায়ী। ফলে, একটা শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে। আর সেই শূন্যস্থান দখল করেছে জামায়াতে ইসলামী।
এই ফলাফল থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট যে নির্বাচনী কৌশলে তারা বিএনপির থেকে অনেকটাই এগিয়ে। বিএনপি যেমন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়, একই ভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে জামায়াত পৌঁছতে চায়। কিন্তু জামায়াতের কৌশল একেবারেই অন্যরকম। আসলে নির্বাচনের মুখে জামায়াতের সামনে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেই সুযোগ অতীতে কোনওদিন তাদের সামনে আসেনি।
বাংলাদেশের রাজনীতির ঘটনাপ্রবাহগুলি আতসকাচের তলায় রাখলে দেখা যাবে প্রশাসনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে জামায়াতের লোক। এর অর্থ শাসন ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই তাদের হাতে। আমরা সকলেই জানি গণতন্ত্রের তিনটি ভিতের কথা – আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ এবং বিচারবিভাগ। আর চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যম। বেশ কিছু গণমাধ্যমে তাদের লোক রয়েছে। তদারকি সরকার বিচারবিভাগের মেরুদণ্ড অনেকটাই ভেঙে দিয়েছে। প্রশাসনের মেরুদণ্ড তো অনেক আগেই ভেঙে গিয়েছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-য়ের (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে যাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে, সেই তাজুল ইসলাম কিন্তু জামায়াতের লোক।
একটি জায়গা এখনও জামায়াতের হাতের বাইরে। সেটা হল সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান আবার হাসিনার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। তাই, জামায়াত তাঁর ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছে না। সে কারণে জামায়াত চাইছে, বাহিনীতে তাদের ‘ইয়েসম্যানকে’ বসাতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে নামটি ঘোরাঘুরি করছে তিনি আবার আওয়ামী লীগের আমলে উঁচু পদ পেয়েছিলেন।
জামায়াত কিন্তু একটা ব্যাপারে নিশ্চিত যে ব্যাকডোরে সেনাবাহিনীর সমর্থন ছাড়া তারা কোনওভাবেই ক্ষমতা দখল করতে পারবে না। তারা চাইছে, বাহিনীর সহমর্মিতা। বাহিনীতে তাদের সমর্থক রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রাক্তন এবং কর্মরত সদস্যদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার আসল কারিগর কিন্তু তারাই। আর আন্তর্জিতক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে যাকে নিয়োগ করা হয়েছে, সেই তাজুল ইসলাম কিন্তু জামায়াতের লোক। এবার তাদের লক্ষ্য বাহিনীর মাথায় তাদের পছন্দের লোককে নিয়োগ করতে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post