আন্তজার্তিক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এখন একটি প্রশ্ন উঠছে, সেটা হল ভারতবর্ষ যে বাংলাদেশের সঙ্গে ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তিটি বাতিল করল, এর ফলে বাংলাদেশ ঠিক কতটা বিপাকে পড়বে? আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে যে যে তথ্য উঠে আসছে, তাতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। এরপর যত দিন গড়াবে, ততই এর ফল বুঝতে শুরু করবে বাংলাদেশ।
২০২০ সালে শেখ হাসিনার জমানায় বাংলাদেশকে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেয় ভারত। ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সঙ্গে খুব সহজেই ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারত। যেমন, বাংলাদেশে তৈরি বস্ত্র সবথেকে বেশি যায় স্পেনে। এর জন্য বাংলাদেশ, কলকাতা বিমানবন্দরটিকে ব্যবহার করত। কিন্তু এই সুবিধা বন্ধ করে দিতে সমস্যা বাড়ল বাংলাদেশের। আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বড়সড়ো ধাক্কা বাংলাদেশের। ভারত সবে শুরু করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগেই শুরু করে দিয়েছে ইউনূসকে চাপে ফেলতে।
গত ১৫ মাসে ভারতের সড়ক ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাত থেকে প্রায় ৩৬টি দেশে রফতানি করেছে প্রায় ৫ হাজার ৬৪০ কোটি টাকার পণ্য। এতে ডলার হিসাবে আয়ের পরিমাণ প্রায় ৪৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড়ে ৩৭৬ কোটি টাকা রফতানি করতো বাংলাদেশ। এবার কি করবেন মোহম্মদ ইউনূস? দেশের এত বিপুল পরিমাণে ক্ষতি তার আমলেই। বাংলাদেশের জনগণ সক্রিয় হলে এইবার সামলাতে পারবেন তো তিনি? উঠছে প্রশ্ন।
আসলে বারেবারে ভারতের উপর বাংলাদেশের শত্রু মনোভাব, যেটা মোটেই ভালো চোখে দেখছে না ভারত। কিছুদিন আগেই
বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম মিথ্যাচার করছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক ঘিরে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছেন তিনি। এমনটাই অভিযোগ উঠে আসছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি অভিযোগ উঠছে, এই বৈঠকে যে যে বিষয় উঠেইনি, সেগুলি নিয়ে নিজের মতো করে মন্তব্য করছেন শফিকুল আলম।
শুধু তাই নয়, মোদীর সঙ্গে দেখা করার জন্য কাকুতি মিনতি করতে দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে। এদিকে তার আগে চীনে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মোহাম্মদ ইউনূস। শুধু তাই নয়, তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ হল সমুদ্রের অভিভাবক। যেটা মোটেই ভালোভাবে নেয়নি ভারত। এমনকি করা জবাব দেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
একদিকে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া, অন্যদিকে শত্রুর মতো আচরণ করা। এরপরই করা পদক্ষেপ নেয় ভারত। যদিও এই সিদ্ধান্ত ভারত নিয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে চিন্তা ভাবনা করে, শুধুমাত্র বাংলাদেশকে চাপে ফেলার মনোভাব নিয়ে নয়, সেটাও জানাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post