‘সে আঁধার থেকে ফেরার পথ নাই।’
পথ যাও বা একটা খোলা ছিল, সেটাও শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল। বলা ভালো মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হল। সবাই তো আর ভারত নয় যা তা বলে যাবে, আর মুখ বুঝে সব সহ্য করে যাবে। ভারতের সহ্যসীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গিয়েছিল। ভারত আরও কিছুটা সময় দিয়েছিল যদি দেশটা ভুল করেও নিজেদের ভুলচুক শুধরে ভদ্রভাবে চলাফেরা করে। তারা সেটা করেনি। তাই, ভারতও এবার একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। বলা ভালো সাউথব্লককে এই পথে হাঁটতে বাধ্য করা হয়েছে।
ভারতের মতো আমেরিকাও কিছুটা হলে এক পথ নিয়েছিল। বহুবার তাদের তরফে বলা হয় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। ভোট হোক অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে। নির্বাচনে যাতে প্রতিটি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকার সেটা নিশ্চিত করুক। গত ১৫-১৬ মাসে একটা কিছু করেনি। তাই, ভারত একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। ভারত আপাতত ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দিয়েছে। ভারতের দেখাদেখি বাংলাদেশও একই রাস্তায় হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও তাতে ভারতের কোনও ক্ষতি হবে না। ভারত কিন্তু ভিসা কেন্দ্র বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপত্তার খাতিরে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে জুলাই ঐক্য ব্যানার নিয়ে কিছু কট্টরপন্থী ইসলামি গোষ্ঠী বিক্ষোভ দেখায়। তারা ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলে। এরপরেই ভারত বেশ কয়েকটি ভিসাকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
এবার সেই পথে হাঁটল আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসন ৭৫টি দেশকে ভিসা আপাতত না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে। সেই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, লক্ষাধিক ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ভিসা সংক্রান্ত মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রথম প্রকাশ করে ফক্স নিউজ। যদিও তাদের প্রকাশিত খবরে বাংলাদেশের নাম ছিল না। পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম মার্কিন পররাষ্ট্রদফতর প্রকাশিত তালিকা খতিয়ে দেখে। তাতে দেখা যায় তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকায় সবার প্রথমে নাম রয়েছে আফগানিস্তানের। ভুটান থেকেও আপাতত কেউ আমেরিকা যেতে পারবে না। কারণ, তালিকায় তাদেরও নাম রয়েছে। তালিকায় নাম আছে পাকিস্তানেরও। তবে ভারতের নাম না থাকায় অনেকটাই স্বস্তি। নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে ২১ জানুয়ারি থেকে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে এই নিয়ে একটি পোস্ট করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘The State Department will pause immigrant visa processing from 75 countries whose migrants take welfare from the American people at unacceptable rates. The freeze will remain active until the U.S. can ensure that new immigrants will not extract wealth from the American people. ’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘The pause impacts dozens of countries – including Somalia, Haiti, Iran, and Eritrea – whose immigrants often become public charges on the United States upon arrival. We are working to ensure the generosity of the American people will no longer be abused. ’
বাংলাদেশের নাম তালিকায় ওঠা নিয়ে কিন্তু নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন ওঠার কারণ রয়েছে। খলিলুর রহমান সম্প্রতি আমেরিকা যান। তিনি মার্কিন শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেন। গাজায় মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে বাংলাদেশ সেনা – এমন আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তারপরেও সে দেশের নাম ‘নিষিদ্ধ’ তালিকায় ওঠায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করছেন?
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদারতার সুযোগ নিতে পারে – এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করার মতো ক্ষমতা স্টেট ডিপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহার করে আসছে। এই ৭৫টি দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হচ্ছে, যাতে সরকারি সুবিধের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে, এমন বিদেশীদের ঠেকানো যায়। ’
উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে এই বিধান সীমিত করা হয়। তখন কেবল নগদ সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা ব্য বিবেচনায় নেওয়া হত। এসএনএপি (খাদ্য সহায়তা), উইক, মেডিকেউড বা আবাসন ভাউচার – এই সব কর্মসূচিকে তখন এর বাইরে রাখা হয়।











Discussion about this post