শুল্কযুদ্ধের মরুতে বন্ধুত্বের মরুদ্যান!
ভারত-মার্কিন এক অবিশ্বাস্য প্রতিরক্ষাচুক্তি সম্পর্কের কথা জানাতে গিয়ে এই মন্তব্য করতে হয়। আমরা তথা গোটা বিশ্ব জেনে গিয়েছে, মার্কিন শুল্ক নিয়ে গত কয়েক মাসে দিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনার পারদ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছিল। এই আবহে এই চুক্তি নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। অনেকে এমনও বলছেন, মি. ট্রাম্প পকেট থেকে তাঁর ট্রাম্পকার্ড বের করে বিশ্বকে চমকে দিলেন। এই ভদ্রলোক একজন আনপ্রেডিক্টেবল। তিনি কখন কী করবেন, সেটা তিনি নিজেও জানেন না। সেই না জানার পদক্ষেপ হিসেবে এবং ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষাখাতে ১০ বছরের জন্য একটি চুক্তি সই করেছেন।
সই হয়েছে কুয়ালামপুরে। সেখানে আশিয়ান ভুক্ত দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক চলছিল। ভারতের হয়ে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। আমেরিকা পাঠায় তাদের ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার ’ পিটার হেগসেথকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ আগের নাম ছিল ‘ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স’। কী রয়েছে এই চুক্তিতে। পিট হেগসেথ এক্স প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছেন, ‘এই চুক্তি দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য একটি মৌলিক ভিত্তি। আমরা আমাদের তথ্য ভাগাভাগি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এত মজবুত ছিল না। ’
চুক্তি সইয়ের কিছুক্ষণ বাদে এক্স হ্যান্ডেলে সেক্রেটারি অব ওয়ার পিটার হেগেসেথ লেখেন, ‘আমি এই মাত্র রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে ভারতের সঙ্গে ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষাখাতে একটি চুক্তি সই হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আমাদের সম্পর্ক আগের থেকে আরও মজবুত হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামীদিনে প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে উভয়েই তথ্য আদানপ্রদান করব। সাহায্য করব প্রতিরক্ষাপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও। ’
সম্প্রতি ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। মোদি এবং ট্রাম্প উভয়েই বুঝতে পেরেছেন, এই দূরত্ব মিটিয়ে ফেলা দরকার। দুই তরফেই তার জন্য চেষ্টা চলে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েকদিনের মধ্যে দুই রাষ্ট্রনেতা মুখোমুখি বসতে চলেছেন। তাঁর আগে হল এই চুক্তি সই। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছে কূটনৈতিকমহল।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই চুক্তির সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে গেল বাংলাদেশ ? দেশটি ভারতের পূর্ব সীমান্তে। আমরা ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছি যে পাকিস্তানের আইএসআই ঢাকায় তাদের হাইকমিশনের ভিতরে একটি শাখা খুলেছে। উদ্দেশ্য – সে দেশের মাটি থেকে ভারতের বিরুদ্ধে নানা ধরনের নাশকতা চালিয়ে যাওয়া। ফলে, বর্তমান বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি হুমকি স্বরূপ। এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে, সেই হুমকির কাছে দিল্লি মাথা নত করে আমেরিকার সঙ্গে এই চুক্তি সই করেনি। চুক্তি সই করেছে সে দেশে থেকে যদিও কোনও হুমকি আসে, সেটা যাতে প্রতিহত করা যায়, তার জন্য সাউথব্লক ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। ভারত দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করল।
উল্লেখ করা যেতে পারে, সম্প্রতি পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষাখাতে চুক্তি সই করেছে। সেই খবর শুনে বাংলাদেশ বিরোধী পাকিস্তানপন্থীরা হর্ষোল্লাসে ফেটে পড়ে। আর তারা যখন খবর পেল ভারত-আমেরিকা প্রতিরক্ষখাতে ১০ বছরের জন্য একটি চুক্তি করেছ, সেই খবর শুষে নিল যাবতীয় আনন্দ।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড বলে যাকে গোটা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।...
Read more












Discussion about this post