Huglomacy।
আগে এই শব্দটি নিয়ে কিছু কথা। শব্দটির ভিতরে দুটি শব্দ রয়েছে। একটি শব্দ Hug। Diplomacy শব্দের শুধুমাত্র macy শব্দটিকে ধার করা হয়েছে। এই দুই শব্দ জুড়ে তৈরি হয়েছে Huglomacy। Diplomacy শব্দের অর্থ কূটনীতি। বেশ কিছু বছর আগেও দেখা যেত দুই দেশের শীর্ষনেতাদের কোথাও দেখা হলে তারা একে অপরের দিকে ডাঁন হাত বাড়িয়ে দিতেন। এই হাত ধরার মধ্যেও কিন্তু কূটনীতি রয়েছে। একজন অপরজনের হাত কীভাবে ধরেছেন, কতক্ষণ ধরে রেখেছেন, তার ওপর নির্ভর করছে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের রসায়ন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে রেখে দুই নেতার মৃদু ঝাঁকুনি প্রমাণ করে দেয়, তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর। আর অল্প সময়ের মধ্যে ধরে রাখা মানে কূটনৈতিক সম্পর্ক উষ্ণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিনন্দনের কৌশল বদলে যায়। জাতীয় রাজনীতিতে তো বটেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও। তবে পুরুষ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে একজন মহিলা রাষ্ট্রপ্রধানের Huglomacy দেখা যায় না। কারণ, সেটা দৃষ্টিকটু।
কী কারণে এত কথা? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, বিদেশি কূটনীতিককে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেছেন জামায়াতের আমির ড. শফিকূর রহমান। অনেকে এই নিয়ে নানা ট্রল করেছেন। আবার কেউ বিষয়টিকে নিছক প্রাণবন্ত আড্ডা ও খুনসুটি হিসেবে দেখছেন। এই ছবি শনিবার, ২১ মার্চ। ওই দিন ছিল ঈদ। ওই দিন দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলনেতার সরকারি বাসভবনে কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, ভারত, জাপান, ব্রুনেই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, নেপাল, নেদারল্যান্ডস ও ভূটানের রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনাররা। ছিলেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। ওই অনুষ্ঠানের বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও নিউজ বর্তমান সেই সব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে তিনি কোনও কোনও কূটনীতিককে জড়িয়ে ধরেন। কারও কপালে চুমু খেয়েছে। খাবার টেবিলে বসা এক কূটনীতিককে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেন। ঘটনার দিন বিকেল থেকেই নেটিজেনেরা বিষয়টিক ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। অনেকে ভিডিওটি শেয়ার করে তীর্যক মন্তব্য করেছেন। কোনও কোনও মহল থেকে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেব করছেন।
কিন্তু ওই সব আলিঙ্গন করে, চুমু খেয়েও যে লাভের লাভ কিছু হয়নি, তার প্রমাণ মার্কিন কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব। ৭১-য়ের পাক সামরিক বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। সেই সঙ্গে এর জন্য জামায়াতে ইসলামীকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব পেশ করেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান। পার্লামেন্টের নিম্মকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস প্রস্তাবটি তোলেন। তিনি তাঁর প্রস্তাবে বলেন, এই হত্যাযজ্ঞে সাহায্য করেছে জামায়াত। তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা দরকার। গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান যে প্রস্তাব পেশ করেছেন, সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৭১-য়ের ২৫ মার্চ ঘোষিত অপারেশন সার্চলাইটের সময় পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী তাদের ইসলামপন্থী সহযোগীরা বাংলাদেশে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। ওই সময় সব ধর্মের জাতিগত বাঙালিরা হত্যাযজ্ঞের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছিল। নির্মূল করা হয় হিন্দুদের। রুশ কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র প্রাভদায় এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার মানুষকে খুন করা হয়েছিল। গণহত্যার ইতিহাসে এই হত্যাকাণ্ড পৃথকভাবে জায়গা করে নিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসে ওই প্রস্তাব তুলে ধরে ল্যান্ডসম্যান বলেন, “পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ১৯৭১ সালের অভিযান জাতিসঙ্ঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যা। এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আগেই গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত ছিল। ” তিনি আরও বলেন, ৭১-য়ের গণহত্যার জন্য দায়ী জামায়াতে ইসলামীর উত্থান ঘটেছে। জুলাই আন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের মদতে জামায়াত আবারও মানবতাবিরোধী জঘন্য তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। এমনকী , এই ঘটনায় দণ্ডিতদের ভাল মানুষ সাজাতে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের নামে তামাশাও করেছে। বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ।












Discussion about this post