নড়বড়ে দেশে ক্রমাগত রাজনৈতিক মশকরা চলছে। হ্যাঁ, আমরা বাংলাদেশের কথা বলছি। বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ১৫ মাস পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি আসন্ন বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা শুধু অন্যায় নয়, এটি অসাংবিধানিক এবং আইনত অবৈধ। শেখ হাসিনা আরও বলেন, পরবর্তী সরকারের নির্বাচনী বৈধতা থাকতে হবে। কোটি কোটি মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলে তারা ভোট দেবেন না। বাংলাদেশে একটা কার্যকর স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাইলে এই কোটি কোটি মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। অর্থাৎ, তিনি কার্যত ভোট বয়কটের কথাই বলেছেন।
মনে করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন না ফিরলে এবং আসন্ন ভোটে যদি তাঁর দল অংশ নিতে না পারে, তাহলে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের প্রায় দেড় কোটি সমর্থক ভোট বয়কটের পথেই হাঁটবেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এই মনোভাব ব্যক্ত করতেই বাংলাদেশের রাজনীতি তোলপাড় হতে শুরু করেছেন। অনেক বিশ্লেষকরাই বলছেন, শেখ হাসিনা আটঘাঁট বেঁধেই নেমেছেন। তিনি এই ব্যাপারে ইউনূস সরকারের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করবেন। আর এতেই কার্যত আতান্তরে পড়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। ফলে তড়িঘড়ি ইউনূস সাহেব একটা প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ভেস্তে দিতে বিদেশী চক্রান্ত চলছে। তাতে আরও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। অনেকেই বলতে থাকেন, হাসিনার এই মন্তব্যে নির্বাচন কেন ভেস্তে যাবে? আসলে ইউনূসই ভোট না করানোর আছিলা খুঁজছেন। এতে আরও চাপ বাড়ে ইউনূস সরকারের উপর। ফলে এবার নির্বাচন নিয়ে বড় বার্তা দিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এবার ভোট নিয়ে ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম রীতিমতো আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে জানালেন, দেশের সংসদ নির্বাচন আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই হবে। কোনও শক্তি তা পিছিয়ে দিতে পারবে না। শফিকুল আলম আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের মত জানিয়েছে। আমরা এটিকে হুমকি হিসেবে দেখছি না। যেটা সবচেয়ে উত্তম, প্রধান উপদেষ্টা সেটাই করবেন। বাংলাদেশ ও ভারতের বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষক অবশ্য দাবি করছেন, মুহাম্মদ ইউনূস মনে প্রাণে চাইছেন, নির্বাচন পিছিয়ে যাক। কারণ, নির্বাচনের পর যেই সরকার গঠন করুক না কেন, তাঁকে সরে যেতে হবে। এটা তিনি চাইছেন না। অপরদিকে, জামাত, এনসিপি ও কয়েকটি কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠনও চাইছে না দ্রুত নির্বাচন হোক। আর সেই কারণেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও গণভোটের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে জামাত-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল।
আবার এনসিপিও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সরব। যা ঘিরে বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের সমর্থক রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে ফের তীব্র দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। নভেম্বরেই গণভোটের দিন ঘোষণার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে জামায়াত। এই আবহেই ইউনূসের একটি মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। তিনি বুধবার একটি বৈঠকে বলেন, আমার কাছে খবর এসেছে, ভোট বানচালে দেশের ভিতর থেকে, বাইরে থেকে অনেক অপশক্তি কাজ করছে। বড় শক্তি নিয়ে তারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে। হঠাৎ করে আক্রমণ চলে আসতে পারে। এই মন্তব্য সামনে আসতেই অনেকে সমালোচনায় মুখর হয়। ফলে ইউনূস আরও চাপে পড়ে যান। ফলে তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করলেন তিনি। ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই বাংলাদেশে নির্বাচন হবে বলে জানিয়ে দিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে হাসিনার বিচারের রায়ের দিকেও যে তাঁরা তাঁকিয়ে আছেন, সেটা বলতে ভোলেননি প্রেস সচিব শফিকূল আলম। অর্থাৎ, সব জায়গাতেই তাঁরা হাসিনার ভূত দেখছেন।












Discussion about this post