বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এখন একটাই চর্চা ইউনুসের নিউইয়র্ক সফর। সেখানে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের উপর ডিম নিক্ষেপ হোক বা বিএনপি-আওয়ামী লীগের পারস্পরিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে চলছে চর্চা। আবার মুহাম্মদ ইউনূসের বিভিন্ন বৈঠক ও জাতিসংঘে তাঁর ভাষণ, এই বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। তবে এই অবহে কার্যত একটি খবর বাংলাদেশের গণমাধ্যম এড়িয়ে গিয়েছে। সেটা হল মালয়েশিয়ায় হয়ে যাওয়া ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মি চিফস কনফারেন্স। যেখানে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ও ভারতের সেনাপ্রধান। জানা যাচ্ছে, ওই কনফারেন্স চলাকালীন এবং কনফারেন্সের ফাঁকে দুই দেশের সেনাপ্রধান আলাদা বৈঠক করেছেন। যা সাম্প্রতিক সময়ের নিরিখে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সেনাপ্রধানেরা মৈত্রী ও সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মতবিনিময় করেছেন। এটা তো সরকারি ভাষ্য, কিন্তু নির্ভরশীল সূত্র বলছে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সম্মেলন চলাকালীন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু এর ফাঁকেই তাঁরা আলাদা করে একটি বৈঠক করেছেন। জানা গিয়েছে, ওই সময়ে ভারতের সেনাপ্রধান মারফত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোনে কথা বলেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে।
উল্লেখ্য বিগত এক বছরে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ভারত সফর করেননি। যদিও ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী একাধিকবার দাবি করেছেন তার সঙ্গে জেনারেল ওয়াকারের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। অর্থাৎ তাঁদের মধ্যে টেলিফোনিক কথাবার্তা হয়। বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম দুই দেশের সেনাপ্রধানের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হল। আর এই সুযোগেই জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উল্লেখ্য, বিগত এক বছরে জেনারেল ওয়াকার একবারও ভারতের বিরুদ্ধে বা ভারতের মর্যাদা হানী হয় এমন কোনও মন্তব্য করেননি। যে কাজটা একাই করে গিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। জেনারেল ওয়াকার এক-দুবার ইউনূস প্রশাসনকে সাবধানও করেছেন না প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ না করতে। বিভিন্ন সূত্রে এও খবর উঠে আসছে, তিন দশের আগে কলকাতায় হয়ে যাওয়া ভারতের গুরুত্বপূর্ণ এক সেনা সম্মেলনে জেনারেল ওয়াকার ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে চেয়েছিলেন। তারপরপরই মালয়েশিয়ায় ভারতের সেনাপ্রধানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারতীয় সেনা কর্তারা রাজনীতিতে কখনোই মাথা গলার না, সেই নজির নেই বললেই চলে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বরাবরই সে দেশের রাজনীতিতে মাথা গলিয়ে দেয়। এবারও যেমন গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ সেনার একটা বড় ভূমিকা ছিল। এই আবহে মালয়েশিয়া য় একান্ত বৈঠক করেছেন দুই দেশের সেনা প্রধান। এ পিছনে অন্যতম কারণ হল, শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ হাসিনার টেলিফোনে কথা বলা। এই বিষয়টি সম্ভব হয়েছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের নির্দেশে। চানা যাচ্ছে শেখ হাসিনার সঙ্গে জেনারেল ওয়াকার দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন সে সময় চোখ ভিজে যায় সেনাপ্রধান ওয়াকারের।












Discussion about this post