বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিক কাড়লো মোঃ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। মুক্তিযুদ্ধের মূল কান্ডারী, বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবর রহমান। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছিল সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেই অস্বীকার সেদেশের অন্তরবর্তীকালীন সরকারের। বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনতে মঙ্গলবার রাতে অধ্যাদেশ জারি করা হল। অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ চার শতাধিক নেতার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি অস্বীকার ইউনূস সরকারের। মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজনীতিবিদদের বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল নিয়ে শোরগোল পড়েছে বাংলাদেশে অন্দরে।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের এই নয়া অধ্যাদেশের ফলে মুক্তিযোদ্ধা থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হয়ে গেলেন মুক্তিযুদ্ধের মূল কান্ডারী বঙ্গবন্ধু-সহ চার শতাধিক নেতা।
শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ-সহ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী চার শতাধিক রাজনীতিবিদের অর্থাৎ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। অধ্যাদেশে এসব নেতাদের পরিচয় ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রক থেকে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
ইউনুস সরকার, বর্তমান বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধন করেছে। তারই অধ্যাদেশ মঙ্গলবার রাতে জারি হয়েছে।
‘মুক্তিযোদ্ধা’ সংজ্ঞা সংক্রান্ত জারি হওয়া বাংলাদেশের নয়া অধ্যাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব এমএনএ ও এমপিএ, যাঁরা গণপরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন তাঁদের আর বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বিবেচনা করা হবে না। এবার থেকে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসাবে বিবেচিত হবেন। এতদিন পর্যন্ত এরা সকলেই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃত হতেন।
উল্লেখ্য,বাতিল হওয়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২ অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু-সহ প্রবাসী সরকারের এমএনএ কিংবা এমপিএ এবং উল্লেখিত চার শ্রেণির সবাই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী এখন তাঁরা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে পরিচিত হবেন। জানা গিয়েছে গত ১৫ মে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার শর্তে এই খসড়াটি অনুমোদন করা হয়। এরপর আইন মন্ত্রণালয় সহযোগী মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি অনুমোদন দেয়। এবং শেষমেষ রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে এই অধ্যাদেশ জারি করা হল সেদেশের অন্তরবর্তী কালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ৫ অগাস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে পড়ে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মূর্তিও ভাঙতে দেখা যায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা কে । এরপরই সে দেশে গঠিত হয়েছিল ডঃ মোঃ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর থেকে সৃষ্টি হয় অরাজক পরিস্থিতি বাংলাদেশ জুড়ে। সম্প্রতি বাংলাদেশের টাকার নোট থেকেও শেখ মুজিবর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আর এবার বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি কেড়ে নিতে উদ্যত হল ইউনূস সরকার।












Discussion about this post