অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশ সংঘাত একেবারে চরমে। যে একশন নিল ভারত, তাতে চরম বিপদে মহম্মদ ইউনূসের সরকার। ইউনূসের দেশকে শিক্ষা দিতে চরম একশন নিল ভারত। যে খবর সামনে এসেছে, সেটা অত্যন্ত ভয়ংকর। প্রায় ১৩ জনকে নোম্যান্স ল্যান্ডে ফেলল ভারত সরকার। আসলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আসাম সরকারের পক্ষ থেকে।
আসলে আসাম সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা আইন মেনে। এদিকে মহম্মদ ইউনূসের দেশ বলছে, জোর করে ভারত অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পুশ ইন করছে। আর বিজিবির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভারত বা আসাম সরকারের পক্ষ থেকে যা করা হয়েছে, সেটা আইন মেনে। ভারত এবং বাংলাদেশের আসাম রাজ্যে ২৬৬ কিলোমিটার যে বর্ডার এরিয়া রয়েছে, সেখান থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আসাম সরকার। অর্থাৎ তাদের চিহ্নিত করে নিজেদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আসলে অসীম সরকারের হাতে ৬৭ জন অবৈধ বাংলাদেশি ধরা পড়েন বলে খবর। তারপরই বিএসএফের সাহায্য নিয়ে ওপার বাংলায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে খবর রয়েছে, ৫৪ জন বাংলাদেশী নাগরিককে চিহ্নিত করে সেখানকার সরকার ফিরিয়ে নেন। কিন্তু বাকি ১৩ জনকে ফেরাতে নারাজ বাংলাদেশ। এদিকে তাদের বিএসএফ নোম্যান্সল্যান্ডে রেখে দেওয়া হয়েছে। আসলে ১৯৭১ সালে ২৪ মার্চের পর করা এসেছেন, তাদের জায়গা দেওয়া হবে না। তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। কিন্তু তারপরও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে একশন নিতে হলে ভারত সরকারকে। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের দেশে পাঠানোর জন্য। ফলে এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এই একশন নেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু আইন ঠিক কি বলছে? কারণ যেভাবে বাংলাদেশ ভারতকে দোষারোপ করছে, তাতে আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক্ষেত্রে। ফরেনার ট্রাইব্যুনালে বলা আছে, যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তাদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতে হবে। যদি সেই সরকার মেনে না নেয়, তবে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিরিয়ে দিতে হবে। এদিকে ভারতের ও বিভিন্ন সংগঠন দাবি তুলেছে বাংলাদেশের মতো। যে ভারত কোনও আইন না মেনে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। এমনকি এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলা হয়েছে। আর এই মামলা করেছে, ভারতেরই একটি সংগঠন। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সেকশন 6A অব দ্যা সিটিজেন্সি অ্যাক্ট, সেখানে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ, এই আইনটিকেই বৈধতা দেয়। অর্থাৎ ভারত সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ বাংলাদেশিদের তাদের দেশে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এদিকে ভারতের এই বিভিন্ন সংগঠন বলছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তারা জানিয়েছে, তাদের আশ্রয় কোনও জায়গা নেই। তবে তারা কোথায় যাবে? এমনকি তাদের যেখানে রাখা হচ্ছে, সেখানে প্রাণের সংশয় রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। কিন্তু ভারত সমস্ত আইন প্রক্রিয়া মেনেই এই কার্যক্রম করছে। তবে এটা বলাই যায়, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশের সংঘাত একেবারে চরমে।












Discussion about this post