বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দর বিদেশি কোম্পানিগুলিতে পরিচালনার নাম করে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগে দেশের অন্দরে নানা অস্থিরতা শুরু হয়েছে। তবে কি সত্যিই চট্টগ্রাম বন্দর দখল হয়ে গেল? বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা হচ্ছে। খবর রয়েছে, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও আপত্তি জানানো হয়েছে। আসলে যে খবর সামনে এসেছে সেটা অত্যন্ত ভয়ংকর। দেশের সবথেকে বড় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি, সেটি বিদেশী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে কিনা, সেটা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। জানা যাচ্ছে, দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড এর কাছে তুলে দেওয়ার একটি খবর সামনে আসছে। আরও বেশি উত্তেজনা তৈরি করেছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের ৩৪ জন কর্মকর্তার এনসিটিতে প্রবেশ, যার মধ্যে ২১ জনই ভারতীয় নাগরিক। এদিকে ভারতের সঙ্গে মোহাম্মদ ইউনূসের সরকারের নানারকম টানাপোড়েন চলছে। কিন্তু ২১ জন ভারতীয় যে এই টার্মিনালে প্রবেশ করল, সেই নিয়ে কি কোনও আপত্তি নেই ইউনূসের? কেন তিনি নিশ্চুপ? প্রশ্ন উঠছে।
জানা যাচ্ছে, গত ১৫ই এপ্রিল ডিপি ওয়ার্ল্ডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তানভীর হোসেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের কাছে একটি গেটপাস চেয়ে আবেদন করেন। এমন খবরই উঠে আসছে। এদিকে তার পর দিন বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয় তাদের। সেখানেই জানা যায়, ওই প্রতিনিধি দলতুর মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ছিল ২১ জন। বাকিরা দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও ফিনল্যান্ডের নাগরিক বলে খবর। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, যদি কোনরকম চুক্তি হয়ে থাকে তবে সেটি গভর্নর টু গভর্নর হবে। কিন্তু সেখানে তারা কিভাবে প্রবেশ করতে পারলেন? এমনকি শুধু প্রবেশ নয়, দখলদারিত্বের সঙ্গেও তুলনা টানছেন। কেউ কেউ বলছেন, এখনো তো বন্দরকে ইজারা দেওয়া হয়নি। তাহলে কেন বন্দরের ভিতরে তারা প্রবেশ করছেন? এমনকি চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে, যাতে কোনোভাবে সেখানে তাদের দেখা না যায়, তার হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক বলছেন, কোন অধিকারে তারা গিয়ে সেখানে খবরদারি করছেন? এই প্রশ্ন তুলছেন তিনি। এমনকি এটাও বলা হচ্ছে, সরকারকে সময় দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে সিদ্ধান্ত বদল করতে হবে। নাহলে তারা ২২ জুন থেকে কর্মবিরতিতে যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, যেটি ২০০৭ সালে ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে এটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি থেকে বছরে এক হাজার কোটি টাকা লাভ আসছে। এমনকি সারা দেশে যে আমদানি রফতানি হয়, তার ৫৫ শতাংশ এই টার্মিনাল থেকে হয়। তবে কেন বিদেশীদের হাতে তে দেওয়া হবে? উঠছে প্রশ্ন। এনসিটি পরিচালনায় সাইফ পাওয়ারটেকের মেয়াদ আগামী ৬ জুলাই শেষ হচ্ছে। তাই জন্যই কি বিদেশীদের তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে? এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, এই টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু সেটি থেমে যায়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার উদ্দ্যেগ গ্রহণ করে এমন একটি কর্মকাণ্ড করতে চলেছে। এখন দেখার, শেষমেশ বিএনপি থেকে অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সেনাবাহিনী পারে কিনা বিদেশীদের হাতে এটার মিনাল তুলে দেওয়া থেকে আটকাতে।












Discussion about this post