তরুণ সমাজকে খাইয়ে দেওয়া হল এমন এক মাদকের গুলি, যা কেড়ে নিল তার ভয়,বিচার বোধ, চেতনা সব। ভাবছেন কি সেই মাদকের গুলি। সেটি হল বিপ্লব। যা খেলে ভারত বিরোধীতার নেশা আর শেষ হয় না। তবে কিছু সমর্থবান তরুণ আছে যারা এই গুলি নিজেরা খায় না, তারা ইউনূসের ডিপ স্ট্রেটের থেকে পাওয়া এই মাদক গুলি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা কামাই করতে পারে। কামাই করতে পারে কথাটা ভুল, তারা কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছে।।
বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখানো হল যে বাংলাদেশের কাউকে কোথাও যেতে হবে না, বিদেশীরাই বাংলাদেশে এসে গ্রীন কার্ডের জন্য লাইন দেবে। বাংলাদেশ আর ভারতের গোলামি করবে না। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হয়েও থাকবে না, হয়ে যাবে ইউরোপ আমেরিকার থেকেও বেশী সুসম্পন্ন।অথবা সেন্ট মার্টিন হয়ে যাবে দুবাই কিংম্বা সিঙ্গাপুর। এমন চাহিদা কি ছিল বাংলাদেশের আম নাগরিকের। আসলে ইউনূস যত বড় বড় স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলেন, মানুষের চাহিদা তার ধারে কাছেও ছিল না। মানুষের চাহিদা ছিল শান্তি নিরপত্তা আর দু-বেলা পেট ভরে খেতে পাওয়া। কিন্তু বিদেশ থেকেই যখন দেশের লোক মানুষকে তার সুবিধার জন্য ভুল বোঝায়, আর তরুণ প্রজন্মকে কিছু না বুঝেই, বিপ্লবের আগুনে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করা হয়, তখন আর কি করার থাকে। আগুনে আলো আছে বলা হয়েছে, কিন্তু সেখানে যে ভয়ঙ্কর তাপ আছে, তা তো পতঙ্গরূপী এই যুব সমাজ জানে না। কিন্তু যে আগুন জ্বালে সে ঠিকই জানে। তাই বিদায় বেলায় দেশবাসীকে বলছেন জালিয়াত।।
আসলে ইউনূসের উপরে ডিপ স্ট্রেট যে বেলাগাম ইনভেস্ট করেছে, এখন ইউনূসের দায় সেই ইনভেস্টকে সুদ সমেত ফিরিয়ে দেওয়ার। তাছাড়া তিনি নিজেও ক্ষমতা দখল করার পর ব্যক্তগত ভাবে দেশ থেকে যে সুবিধাগুলি আদায় করেছেন, সেগুলি বললে তো সেই পুরানো কাসুন্দি ঘাঁটার হয়, তাই আর নাই বললাম। কিন্তু তিনি তো দেশে থাকবেন না। ফলে তার সেফ এক্সিটের জন্য আমেরিকার সব চুক্তি মেনে নিতে তিনি শুধু বাধ্যই নন। সেগুলি আবার জনসমক্ষে প্রকাশ করাও যাবে না। ফলে এখন তিনি যতই বলুন জনগন চাইছে তিনি আরো পঞ্চাশ বছর ক্ষমতায় থাকুন, আসলে জনগন চাইছে তিনি দ্রুত বিদায় নিন। এখন অনেকে বলেবেন যে তিনি তো নির্বাচনের পর বিদায় নিচ্ছেন। আর নির্বাচন খুব কাছে, কিন্তু তার বিদায় বহু দুরে। ঐ যে গণভোটে হ্যাঁ ভোট জয়ী হওয়ার পর যে সংস্কার হবে, সেখানেই আটকে সব গল্প। তিনি নিজের সব ব্যবস্থা পাকা না করে বিদায় নেবেন না। কারণ তিনি ক্ষমতায় থেকে,সংবিধান অবমাননা করেছেন বারবার। আইন কানুন—কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেননি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধরে ধরে ধ্বংস করেছেন। দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, উন্নয়ননীতি—সবকিছুর বিনাশ করেছেন। আর সেটি আমাদের কথা নয়, বলছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নিজেই। এসব তো আছেই কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন দেশের তরুণ সমাজের।প্রয়াত স্বৈরশাসক এরশাদকে নিয়ে হুমায়ূন আজাদ আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “এরশাদ দূষিত করেছেন এ দেশের নারীদেরও!” আজ হুমায়ূন আজাদ জীবিত থাকলে বলতেন, “ড. ইউনূস দূষিত করেছেন এ দেশের শিশু-কিশোরদেরও!”বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো সরকার পরিকল্পনা করে শিশু-কিশোরদের এভাবে বিপথগামী করেননি—যেভাবে প্রফেসর ইউনূস করেছেন। এই কাজ করতে গিয়ে তিনি রাজনৈতিক দল, মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী—এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সারদেরও ব্যবহার করেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এরা সবাই মিলে মব সন্ত্রাসের বৈধতা দিয়েছিল। জাতীয় টিভি চ্যানেলের টকশোগুলো ছিল মবের প্রশংসায় মুখরিত। তাদেরকে ‘বিপ্লবী’, ‘প্রতিবাদী তরুণ’, ‘দেশের অতন্দ্র প্রহরী’, ‘প্রেশার গ্রুপ’—ইত্যাদি সুন্দর সুন্দর নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো। যারা কিছুটা সমালোচনা করত, তারাও সমালোচনার শেষে বলতো—“অবশ্য বিপ্লবের পর এমনই হয়!”এই যুবসমাজই মবের মূল শক্তি। ষোলো–সতেরো বছর বয়সী ছেলে-মেয়েরা মাস্তানি করে বেড়াচ্ছে। তাদের ভয়ে মানুষ তটস্থ হয়ে থাকে। বারো–তেরো বছর বয়সী শিশুরা নির্বিকার ভঙ্গিতে সহিংসতার সাক্ষী হচ্ছে, কোথাও কোথাও নিজেরাই জড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া তরুণরা দম্ভভরে ঘোষণা করছে, “আমরা মা–বাবার কথা শুনি না!” কী অনায়াসে তারা গুরুজনদের সঙ্গে বেয়াদবি করছে! অশ্লীল অকথ্য ভাষায় স্লোগান দিচ্ছে, দ্বিমত হলেই সংঘবদ্ধ আক্রমণ করছে!এসব ছেলে-মেয়ে নিজ পরিবারের সবার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে, নির্বিচারে মাদক নিচ্ছে। পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে এরা যেন সাক্ষাৎ আতঙ্ক।কিন্তু এভাবে আর কতদিন? এসবের তো শেষ আছে, নাকি?












Discussion about this post