১ লা ফেব্রুয়ারী রবিবার লোকসভায় নবমবার বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। প্রত্যেক বছরের মতোই এবছরেও বাজেট নিয়ে আমজনতার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু নির্মলা সীতারমণের ৮৫ মিনিটের বাজেটে তেমন কোনওএ বড় ঘোষণা করেননি নির্মলা সীতারমণ। পাওয়া যায়নি কোনও স্পষ্ট দিশাও। বাজেটে বাংলাদেশের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশের জন্য অনুদান বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমিয়েছে ভারত। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বাড়িয়েছে ভারত। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশের জন্য অনুদান বাবদ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। তবে বরাদ্দ বাড়লেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ভারতীয় সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেটের নথিতে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুসারে সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভারতের ঋণ ও অনুদান বাবদ বিদেশি সহায়তা কর্মসূচিতে কৌশলগত আর্থিক খাত থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও বরাবরের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে আফগানিস্তান, নেপাল ভুটান মালদ্বীপ, শ্রীলংকা , মরিসাসসহ লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার একাধিক দেশের জন্য। তবে অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি, ইরান বা ইরানে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন চাবাহার বন্দরের জন্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। গত বছরের বাজেটে বাংলাদেশের জন্য প্রাথমিকভাবে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে ভারত সরকার। বাজেটে কথা হয়েছিল একরকম কিন্তু এক তৃতীয়াংশও বাংলাদেশে ব্যয় হয়নি ভারতের। নতুন চলতি বছরের বাজেটে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করল ভারত। গত বছরের মতো এ বছরও সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে ভুটানের জন্য। ভুটানের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২,২৮৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া নেপালের জন্য ৮০০ কোটি, মলদ্বীপ এবং মরিশাসের জন্য ৫৫০ কোটি, শ্রীলঙ্কার জন্য ৪০০ কোটি, মায়ানমারের জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলির জন্য মোট বরাদ্দ হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। কেন এই আমূল পরিবর্তন? জানতে নিশ্চয়ই বাকি নেই কারোর। প্রধান কারণ, ১. বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, ২. চীনের প্রতি বাংলাদেশের ঝোক পাকিস্তানের সঙ্গে প্রভাব বৃদ্ধি, ৩. রাজনৈতিক আস্থার অভাব বিশেষ করে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ইউনূসের শাসনের সময় থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপের দিকে গেছে ৪. এক ধাক্কায় বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ টাকা অর্ধেকের অর্ধেক করে দেওয়া হল সেটা বাংলাদেশের জন্য খারাপ। অন্যদিকে, ভারত থেকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা। এখন আর অন্য কিছু নয় শুধুমাত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হবে। অর্থাৎ ভারতের কাছে থেকে বাংলাদেশ কোনও রকম বাড়তি সুবিধা পাবে না। যদিও বাজেটে ঘোষিত বরাদ্দ কখনও চূড়ান্ত নয়। পরবর্তী সময়ে হিসাব পরিবর্তিত হয়। বাজেটে ঘোষণা হচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়ে ব্যয় বৃদ্ধিও পেতে পারে, কমতেও পারে। যেমন গত বছরই ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। পরে সংশোধিত হয়ে তা ৪০০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আবার ভুটানকে সাহায্যের জন্য ২,১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরে ব্যয় হয়েছিল ১৯৫০ কোটি টাকা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post