ফিরছে শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে সেই জল্পনা চলছে। সামনেই রয়েছে নির্বাচন বাংলাদেশে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তা নিয়ে রাজনীতির পারদ ক্রমশ চড়ছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কর্মীরা-নেতারা অপরাধী ও পলাতক হিসেবে তকমা পেয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ১৬ মাসের বেশি সময় আগে বাংলাদেশের কর্তৃত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থান তাঁকে নাটকীয়ভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। বিক্ষোভকারীরা তাঁর বাসভবনের দিকে এগিয়ে আসতে থাকায় তিনি ভারতের উদ্দেশে হেলিকপ্টারে উঠে পড়েন। বহু বিতর্ক জল্পনার পর এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে শেখ হাসিনা ফিরতে পারেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ৫ দিন বাকি থাকতে এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, কলকাতায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের বিশ্বাস, শেখ হাসিনা ‘নায়ক’ বেশেই দেশে ফিরতে পারবেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিক্ষোভকারীদের ওপর শেখ হাসিনার সরকারের দমন-পীড়নে আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন। এরপর তার দলের হাজার হাজার সদস্যও পালিয়ে যান। আওয়ামী লীগের ৬০০-র বেশি নেতাকর্মী বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের শহর কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের দলীয় কর্মকাণ্ড- ও সংগঠনকে চালিয়ে নিতে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আমাদের লোকজনের সঙ্গে আমাদের কর্মী-সমর্থক, দলের নেতা, তৃণমূল পর্যায়ের নেতা এবং অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ভবিষ্যতের জন্য তিনি দলকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী খুবই আশাবাদী, তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। আমরা বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনা বীরের বেশে ফিরবেন।’ কলকাতার শপিংমলের জনাকীর্ণ ফুডকোর্টে আরাম করে ব্ল্যাক কফি আর ভারতীয় ফাস্টফুড খেতে খেতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যস্ত তাদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনায়। গার্ডিয়ানে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওএয়ামী লীগের প্রায় ৬০০ জন নেতা তারা কলকায় রয়েছে। সংখ্যাটা এতদিন কেউ জানত না। গার্ডিয়ানের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের জন্য ভারত একটা লাইফলাইন তৈরী করেছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হলে ভোটের গণতান্ত্রিক বৈধতা নষ্ট হবে। দলটির সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস, বলছে—এ নির্বাচন গত এক দশকের মধ্যে প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। তবে আওয়ামী লীগ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করছেন, দেশজুড়ে প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় তাদের শত শত কর্মী নিহত বা কারাবন্দী হয়েছেন। তাদের কথা, দেশে ফিরলে প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়েছে বলেই তারা ভারতে অবস্থান করছেন। এখন দেখার নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা ফেরে কিনা।












Discussion about this post