বাংলাদেশে এখন ঘটনার ঘনঘটা। মঙ্গলবার তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। সেই বৈঠকে কি কি আলোচনা হয়েছে, সেই নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসে। তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস ব্রিফিং থেকে বেশ কিছু সন্দেহ দেখা যাচ্ছে। যেগুলি গণমাধ্যমকে দেওয়া হয়েছে। এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর ইউনুস সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সারা দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশ্যে গুরুত্ব আরোপ করেন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠকটি ছিল উচ্চ পর্যায়ে। এই বৈঠকটিতে উপস্থিত ছিলেন, জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, নৌবাহিনীর প্রধান ও বিমান বাহিনীর প্রধান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এই বৈঠকে নিরপত্তার বিষয়ে খসরা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন নিরাপত্তা সংস্থার ঊর্ধ্বতম কর্তারা। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যদি বৈঠক হয়ে থাকে তবে সেই বৈঠকে পুলিশ প্রধান কোথায়? তিনি কেন উপস্থিত ছিলেন না? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বাংলাদেশের অন্দরে। এর পূর্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনও বৈঠক হলে, পুলিশ প্রধান উপস্থিত ছিলেন না, এমন নজির নেই।
এছাড়াও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনও কমিটিতে নেই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তারপরও তিনি সেখানে কেন উপস্থিত ছিলেন? অথচ পুলিস প্রধান উপস্থিত ছিলেন না। এই নিয়েই দেশের অন্দরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও এই বৈঠকে কি মানবিক করিডর নিয়ে আলোচনা হয়েছে? যেটা নিয়ে দেশে নানা মহল থেকে নানা মন্তব্য ধেয়ে আসছে।
যদিও বুধবার সেনা নিবাসে সেনাপ্রধান সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, করিডোর, বন্দর বা সেন্ট মার্টিন নিয়ে নির্বাচিত সরকার ছাড়া আর কেউ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এখানেই বোঝা যাচ্ছে, সেনাপ্রধান প্রথম থেকেই এই মানবিক করিডরের বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। এছাড়াও সেনাপ্রধান এই বৈঠকে নানাবিধ মন্তব্য করেন বলে সূত্রে খবর। তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ কয়েক মাস আগে নির্বাচন নিয়ে তার যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্তে অনড় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। ফলে এই বৈঠকের পর মোহাম্মদ ইউনূস যে চপে পড়লেন সেটা বলার অপেক্ষায় রাখে না। এখন দেখার, সরকারের তরফে এখন কি প্রতিক্রিয়া আসে।












Discussion about this post