বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস লন্ডন সফরে গিয়ে বাংলাদেশের জন্য কি নিয়ে এলেন? সেটা নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। তবে কিছু নিয়ে না আসলেও কিছু বিতর্ক সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন বলে বহু গণমধ্যম খবর করছে। এরমধ্যেই প্রধান উপদেষ্টা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দোষারোপ করলেন। এদিকে কিছুদিন আগেই ঈদের শুভেচ্ছা পাঠান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এমনকি শুভেচ্ছা গ্রহণ করে ইউনূস মোদীকে ধন্যবাদও পাঠান। সেই চিঠির ছবি গৌরবের সঙ্গে সমাজিব মাধ্যমে দেন। কিন্তু তারপরও ফের ভারত বিরোধিতা। শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরোধিতা করলেন মহম্মদ ইউনূস। লন্ডনে বসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে চরম আল্টিমেটাম দেওয়ার অর্থ কি? যদিও এখন ভারতের আতঙ্কে দিশেহারা মহম্মদ ইউনূস।
জানা যাচ্ছে, যুক্তরাজ্যের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের রয়েল ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত সংলাপে অংশ নেন মহম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপর কথা বলেছেন। বাকি কথাগুলি সবই তার পুরনো বক্তব্য। তিনি বলেছেন, সংস্কার হবে, নির্বাচন হবে, সংবিধান পরিবর্তন হবে, আইনশৃঙ্খলার বদল আসবে। এমন কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি বিচারের কথাও শোনা যায় তার গলায়। মহম্মদ ইউনূসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কিভাবে ভালো করা যায়? অর্থাৎ ভারতকে ঘিরেই প্রশ্ন ছিল, সেটা স্পষ্ট। সেখানে তিনি বলেন, ভারতের সংবাদ মাধ্যমের জন্য ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেননি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহম্মদ ইউনূস মসনদে বসার পর থেকেই যে সমস্ত বক্তব্যগুলি রেখেছেন, সেগুলি উস্কানিমূলক। এমনকি ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরাও একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা চীনে গিয়ে ল্যান্ড লক বলে ভারতের সেভেন সিস্টার্স প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন। আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বিভিন্ন সময় সাংবাদিক সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি বিবরণ দিয়ে তার যথাযথ উত্তর দিয়েছে মাত্র। এছাড়াও তাৎপর্যপূর্ণভাবে শেখ হাসিনা যাতে বাংলাদেশের কোনও বিষয়ে বক্তব্য না রাখেন, সেটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আবেদন করেন। সেই কথা তুলে ধরেন মহম্মদ ইউনূস। এমনকি এর পরিপ্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদী কি জবাব দিয়েছিলেন, সেটার বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। মোদী জানিয়েছিলেন, এটি সোশ্যাল মিডিয়া। এটাকে আমরা কন্ট্রোল করতে পারি না। এক্ষেত্রে বহু ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেখ হাসিনা হলেও ভারতের অতিথি। তাকে তো জেলে বন্দি করে রাখা হয়নি। তাহলে তার বক্তব্যকে কেন আটকে রাখা হবে? ভারত যেটা করেছে বা করছে, সেটা আথিতীয়তা। এমনকি ইউনূস দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা করেননি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সহযোগিতা করবে ভারত? ভারত বিদ্বেষ বাড়িয়ে কি আশা করছেন মহম্মদ ইউনূস? তিনি একাধিকবার ভারতকে ফাঁদে ফেলতে চেয়েছেন। কিন্তু উল্টে তারাই ফাঁদে পড়েছে। ভারত বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করতেই দিশেহারা মহম্মদ ইউনূসের এর বাংলাদেশ। এর উপর ভারত আরও বড় কোনও পদক্ষেপ করলে, সামলাতে পারবেন তো তিনি?












Discussion about this post