লন্ডনে একদিকে যখন নিজের বিরোধিতায় জেরবার মহম্মদ ইউনূস, তখন ইউনূস ভারত বিরোধিতা করতে ছাড়ছেন না লন্ডনের মাটিতে বসে।
বাংলাদেশে নির্বাচন কবে হবে? এখন এটা ঘিরেই তুমুল আলোচনা বাংলাদেশের অন্দরে এবং বাইরে। নির্বাচন হতে পারে আগামী বছরই। গণতান্ত্রিক উপায়ে স্থায়ী সরকার গঠিত হবে। তবে মাথায় কে বসবেন? ইউনূস কি ফের মসনদে বসবেন? তিনি কি ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন? তা নিয়ে অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়ে দিলেন, কোনওভাবেই না। লন্ডন সফরে গিয়ে যুক্তরাজ্যের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত সংলাপে অংশ নেন। তখনই তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী? উত্তর জানান, একেবারেই না। এমনকি তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের কোনও সদস্যই এটা করতে আগ্রহী হবে না। এই বিষয় ঠিক কি বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস, শুনুন
এর পাশাপাশি তিনি সেখানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যেন অনলাইনে বক্তব্য রাখা বন্ধ করেন। লন্ডন থেকে এমন মন্তব্যই শোনা গেল। কারণ তিনি জানান, শেখ হাসিনার বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী নাকি সেটা কর্ণপাত করছেন না। ইউনূস আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্রই জানিয়েছিলাম, ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে বা তাকে আথিতীয়তা করতে চান, সেটা নিয়ে বলার কিছু নেই। কিন্তু যাতে কোনওরকমভাবে বক্তব্য না রাখেন বাংলাদশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। দয়া করে সাহায্য করুন। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলছেন, সেইভাবে যেন কথা না বলেন হাসিনা। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদীর জবাবের কথাও তুলে ধরেন মহম্মদ ইউনূস। মোদী নাকি বলেছিলেন্জ এটা সোশ্যাল মিডিয়া। এটাকে আমরা কন্ট্রোল করতে পারি না। ভারত থেকে বাংলাদেশ যা আশা করেছিল, সেটা করতে পারছে কিনা জানতে চাইলে ইউনূস জানান, তিনি হাসিনার প্রত্যপনের জন্য ভারতকে চিঠি দেন। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এমনকি তারা শেখ হাসিনাকে চিঠিও পাঠিয়েছে। আমরা চাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্ত কিছু হোক। চ্যাথাম হাউসে কি বলেছেন মহম্মদ ইউনূস, শুনুন
মহম্মদ ইউনূসের চারদিনের লন্ডন সফরে ঘিরে নানারকম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শোনা যায়, তাকে স্বাগত জানাতে প্রশাসনের তরফে কেউ ছিল না। এমনকি তিনি যে হোটেলে ছিলেন তার সামনে কয়েক শত মানুষ জড়ো হন। এমনকি বিক্ষোভও চলেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি লন্ডনের একাধিক জায়গায় বিক্ষিপ্ত আকারে ইউনূসের বিরুদ্ধে স্লোগান চলে,প্রতিবাদ চলে। এমনকি ইউনূসের কুশপুতুলে জুতোর মালা পরানো হয়। এমনকি তার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ তৈরি হয়। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, মহম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফর যথেষ্ট সমালোচনা মূলক।












Discussion about this post