গত ১৬ জুলাই বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে যে গণহত্যা হয়েছে, তা নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ের হল অভিযোগ। জানা যাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান -সহ মোট আট জনের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জে গণহত্যার অভিযোগ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এমনিতেই মঙ্গলবার দিনভর ঢাকা উত্তপ্ত ছিল, অন্তরবর্তী সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনে। পড়ুয়াদের একাংশ রাস্তায় নেমে দাবি করতে থাকে যে উত্তরায় যে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতে নাকি অনেক বেশি হতাহত হয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূস সরকার লাশ গুম করে, মৃতের সংখ্যা অনেক কমিয়ে দেখাচ্ছে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গোপালগঞ্জ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে মুখ পুড়েছে ইউনূস সরকারের। বিদেশী সংবাদমাধ্যমগুলি গোপালগঞ্জ গণহত্যা নিয়ে খবর করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রবল চাপ তৈরি হচ্ছিলো মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের ওপর। করোও করোও দাবি, সেই দিক থেকে নজর ঘোরাতেই বিমান দুর্ঘটনার অন্তর্ঘাত হয়েছে। কিন্তু এবার আন্তর্জাতিক আদালতে গোপালগঞ্জ নিয়ে মামলা দায়ের করে আরও চাপ সৃষ্টি করা হল মুহাম্মদ ইউনূস ও জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের ওপর।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনজীবী নিঝুম মজুমদার দাবি করেছেন, গোপালগঞ্জ গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁর দাবি, নিরস্ত্রদের উপর গুলি চালানোর জন্য প্রাথমিকভাবে তাঁরা কয়েকজন সেনা অধিকারিককে চিহ্নিত করেছেন। তাঁরা ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ওই আইনজীবীর দাবি, মামলাকারীদের বক্তব্য, বাংলাদেশে এই গণহত্যার বিচার হবে না। তাই আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক এর বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে করা হোক।রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলায় কিছুটা হলেও চাপে পড়বেন মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান অনেকটাই চাপে পড়তে চলেছেন। কারণ গোপালগঞ্জে নিরস্ত্র গ্রামবাসী ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েচ্ছে সেনাবাহিনী। দাবি, গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন যশোরের ৫৫তম পদাদিক বাহিনীর জিওসি। এর দায় কোনও ভাবেই এড়াতে পারেন না সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, সেনাপ্রধান গোপালগঞ্জের ঘটনা নিয়ে কোনও বয়ানও দেননি। ওয়াকিবহাল মহল মনে করেছেন, তিনি আসলে নিজের পদ ও জীবন বাঁচাতে মুহাম্মদ ইউনূসের চাপের কাছে মাথা নত করে দিয়েছেন। কেউ কেউ এমনও দাবি করছেন, সেনাবাহিনীর ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। ফলে গোপালগঞ্জ দখল করতে এনসিপি নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে মূলত ওয়াকার বিরোধী সেনাকর্তাদেরই পাঠানো হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে। তাই তাঁরা আওয়ামী লীগ কর্মী সমর্থকদের ওপর গুলি চালাতে দুবার ভাবেনি। এখন প্রশ্ন হল, এই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে কি আদৌ কোনও সুরাহা হবে? ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, খুব একটা হবে না। তবে গোপালগঞ্জ গণহত্যা নিয়ে আরও কিছুদিন প্রচার চালাতে পারবে আওয়ামী লীগ। যেটা তাঁদের রাজনৈতিক ফায়দা। অন্যদিকে মুহাম্মদ ইউনূসও বিমান দুর্ঘটনাকে হাতিয়ার করে গোপালগঞ্জের থেকে দুনিয়ার নজর ঘোরাতে সচেষ্ট হয়েছেন। কিন্তু বাধ সাধছে ছাত্ররাই। তাঁদের আন্দোলন ও দাবি, তাঁদের ওপর পুলিশের লাঠি পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করে তুলছে। এখন দেখার কি হয়।












Discussion about this post