বঙ্গ বিজেপির নতুন অধিনায়ক রাজ্য সভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে বিজেপির সর্ব স্তরের নেতাদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হল শমীক ভট্টাচার্যের রাজ্য সভাপতি নির্বাচন ও অভিনন্দন অনুষ্ঠান। কিন্তু সেখানে দেখা মিলল না দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এর।এমনকি বঙ্গ বিজেপির তরফে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি দিলীপ ঘোষকে। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত গেরুয়া শিবিরের? তবে দিলীপ ঘোষ মানেই চমক! প্রাতঃ ভ্রমণে বেরিয়ে ডুগডুগি বাজিয়ে কি নতুন চমকের বার্তা দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ?
বেশ কয়েক মাস ধরে বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে দিলীপ ঘোষের, লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে বঙ্গ বিজেপির সঙ্গে দিলীপের সম্পর্ক নিয়ে একাধিকবার তরজা হয়েছে ৷ জল্পনা ছড়িয়েছে তার তৃণমূলে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে। কারণ কখনও তিনি নাম না করে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েচ্ছেন আবার কখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে স্বস্ত্রীক হাজির হয়েছেন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে ৷ কিন্তু ফের বিজেপির হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠবেন তিনি, এমনটাই মনে করা হচ্ছিলো৷ বঙ্গবিজেপির পরবর্তী সভাপতি হিসাবে তাকেই বেছে নেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, কিন্তু বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসাবে শমীক ভট্টাচার্য এর নাম ঘোষণা হতেই সব জল্পনার অবসান ঘটলো। তবে আরও এক নতুন জল্পনার জন্ম হলো, তবে কি বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে দেখা যাবে এবার ২১ এর মঞ্চে?
প্রতিদিনের মত ওই দিনও নিউটাউন ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে চা খেতে খেতে ডুগডুগি বাজিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ নিজের কর্ম ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বললেন। তার তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যত পার্টি ঠিক করবে। ভগবানের খাতায় লেখা আছে। আমি নিজে থেকে আসিনি। আমাকে বিজেপি নিয়ে এসে একটা জায়গা দিয়েছিল। পার্টি চেয়েছে তাই আমি এসেছি। পার্টি আমাকে রাজ্য সভাপতি করেছে, বিধায়ক করেছে, সাংসদ করেছে, জাতীয় নেতা করেছে। আমি নিজে থেকে কিছু চাইনি। পার্টি আমাকে গাড়ি দিয়েছে, সিকিউরিটি দিয়েছে। আমি নিজে এগুলোর কোনওটাই চাইনি। পার্টি যদি মনে করে আমি এখন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করব, তাহলে তাই করব। আমাকে ডাকলে আমি যাই। না ডাকলে যাই না।’
সূত্রের খবর, নয়া রাজ্য সভাপতি নির্বাচন ও অভিনন্দন অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী। আর সেই নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য নেতৃত্ব দিলীপ ঘোষকে এই সমাবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে আমন্ত্রণ জানায়নি দিলীপ ঘোষকে।
কিন্তু দিলীপ ঘোষ মানেই নতুন চমক। একুশের মঞ্চকে লক্ষ্য করে নতুন কোন চমক পেতে চলেছে কি রাজ্যবাসী? এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতার দাবি, ‘কল্পনা করতে তো পয়সা লাগে না। অনেকেই করছে। ২১ তারিখ পর্যন্ত কল্পনার ডেট দেওয়া হয়েছে। তারিখ পে তারিখ, কিছু তো মার্কেটে থাকে। দিলীপ ঘোষ মার্কেটে আছে।’
অক্ষয় তৃতীয়ায় দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও সেদিন আলাপচারিতায় দেখা গিয়েছিল দিলীপ ঘোষকে। তাঁকে ঘিরে সেই সময় উত্তাল হয়েছিল। ঘরে বাইরে সমালোচিত হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তবে কি তৃণমূলের সঙ্গে তিক্ততা কাটছে দিলীপ ঘোষের? জবাবে দিলীপ ঘোষ জানান, ‘ তৃণমূলের কুণাল অরূপের সঙ্গে অনেক আগে থেকে পরিচয়। আগামী দিনেও থাকবে।’ পাশাপাশি, আমি জগন্নাথ মন্দির গিয়ে কারও প্রতিনিধিত্ব করিনি। আমাকে মুখ্যসচিব চিঠি দিয়েছিলেন। আমি একজন সম্মানীয় নাগরিক। সেই হিসেবে গিয়েছি। সরকারি প্রকল্প। এটা কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়।’
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ বিজেপি পেল নয়া সভাপতি, অন্যদিকে দিলীপের ঘোষের প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এহেন আচরণ যেন বারংবার নয়া কোন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।












Discussion about this post