তৃণমূল সরকারের নিয়োগ দুর্নীতিতে চাকরিচ্যুত গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে একের পর এক প্রশ্নে বিদ্ধ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার এই সংক্রান্ত এক মামলার শুনানি শেষে রায় ঘোষণা স্থগিত রেথেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তবে আইনজীবীদের একাংশ বলছেন, ভাতা নিয়ে ফের একবার ধাক্কা খেতে পারে রাজ্য সরকার।
২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলে থাকা প্রায় ২৬ হাজার জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এই ২৬ হাজার জনের মধ্যে রয়েছেন গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীরাও। মে মাসেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয়, চাকরিহারা গ্রুপ সি কর্মীদের প্রতি মাসে ২০ হাজার এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের ১৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল লাইভলিহুড অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি ইন্টারিম স্কিম, ২০২৫ এর আওতায় এই ভাতা দেবে রাজ্য সরকার। সরকারের সেই নির্দেশকে বেআইনি বলে উল্লেখ করে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সোমবার এই মামলারই শুনানি ছিল বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে। শুনানি চলাকালীন বড় পর্যবেক্ষণ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে বিচারপতি একাধিক প্রশ্ন তোলেন। যা রাজ্যের কাছে যথেষ্ট বিবৃতকর।
মে মাসের ১৪ তারিখ নবান্ন থেকে চাকরিহারা গ্রুপ সি ও ডি কর্মীদের বিশেষ ভাতা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর প্রথম মাসের ভাতা পেয়েও গিয়েছেন চাকরিহারা গ্রুপ সি ও ডি কর্মীরা।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা নিয়েই কার্যত প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। রাজ্যের আইনজীবীর কাছে তাঁর প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর কোনও রকম আলোচনা বা স্ক্রুটিনি ছাড়াই কেন তড়িঘড়ি এই ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? রাজ্যের তরফে এনিয়ে সওয়াল করেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। তিনি জানান, ইতিমধ্যে ১ এপ্রিল থেকে এই টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে।এরপরই বিচারপতি বলেন, ”এখনই এই টাকা দেওয়া যেন শুরু না হয়। কী করে এত তাড়াতাড়ি টাকা দেওয়া শুরু হয়? আবেদন নেওয়ার পরে তার কিছু পদ্ধতি আছে। সেটা করা হলে এত তাড়াতাড়ি কী করে দেওয়া হবে? জবাবে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, রাজ্যের বক্তব্য জেনে তিনি দুপুরে ফের সওয়াল করতে চান। দুপুর ২টোর পর ফের শুরু হয় সাওয়াল জবাব।
দ্বিতীয় দফার শুনানি চলাকালীনও বিচারপতি রাজ্যের কাছে জানতে চান, টাকার পরিমাণ ১৫ হাজার এবং ২০ হাজার হল কেন? কিসের ভিত্তিতে এই অঙ্ক নির্ধারণ করলেন? কত সংখ্যক শিক্ষাকর্মী এই টাকা পাবেন? অতীতে কোন কোন ঘটনায় এরকম আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছিল কিনা ইত্যাদি। জবাবে রাজ্য সরকারের তরফে এজি কিশোর দত্ত জানান, একাধিকবার এরকম অর্থ দেওয়া হয়েছে। যেমন পুজো বা অন্যান্য ঘটনায়। বিশেষ খাত থেকে এই টাকা বরাদ্দ করা হয়। এরপরও বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা এই টাকা পাবেন, তাঁদের থেকে রাজ্য প্রতিদানে কী পাবে? তাঁরা ঘরে বসে থাকবেন আর টাকা পাবেন? সুপ্রিম কোর্টে একটার পর একটা রিভিউ পিটিশন হতে থাকবে আর এঁরা টাকা পেতে থাকবেন? সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি সিনহার নির্দশ, এখনই কোনও টাকা দেওয়া যাবে না। তবে এদিন কোনও রায় ঘোষণা করেননি বিচারপতি অমৃতা সিনহা।












Discussion about this post