বিগত ১০ মাসে আমরা দেখেছি বাংলাদেশে বিদেশি শক্তিগুলির আনাগোনা। পড়শিদেশ হিসাবে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের মাথাব্যথা তো ছিলই। মুহাম্মদ ইউনূসের দৌলতে সেখানে ঢুকে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, রাশিয়া। এবার বাংলাদেশের বিষয়ে ঢুকে পড়ল ইউক্রেনও। আর সেটা আজব একটি কারণে।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি ইউক্রেন থেকে গম কিনেছিল বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেটাই ছিল প্রথম বিদেশি চালান। বাংলাদেশী সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৫২ হাজার ৫০০ টন গম ইউক্রেন থেকে কিনেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৩১ হাজার মেট্রিক টন চট্টগ্রামে বন্দরে খালাস হয়েছিল আর বাকিটা খুলনার মোংলা বন্দরে খালাস করা হয়। ইউক্রেন সরকারের দাবি, ওই গম সরাসরি তাঁদের থেকে নেয়নি বাংলাদেশ। যুদ্ধের পরবর্তী সময় রাশিয়া ইউক্রেনের কিছু কিছু এলাকা দখল করেছিল। ওই এলাকা থেকে গম গিয়েছে বাংলাদেশে। যা আন্তর্জাতিক আইনে বেআইনি। ইউক্রেনের সরকারের থেকে কোনও রকম অনুমতি না নিয়েই একটি সংস্থা গম রফতানি করেছে রাশিয়ার দখলিকৃত এলাকা থেকে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে বিগত তিন বছর ধরে। এটা যে এত সহজে মিটবে না তার প্রমান সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা। এরপর রাশিয়াও ছেড়ে কথা বলছে না, ইউক্রেনের একের পর এক শহরে চলছে রুশ হামলা। এই পরিস্থিতিতে আচমকা বাংলাদেশ নিয়ে চরম এক অভিযোগ করল ইউক্রেন। সম্প্রতি নয়া দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে দুটি চিঠি দিয়েছে দিল্লির ইউক্রেন দূতাবাস। আর তাতে বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে। জানা যায়, সাম্প্রতিক যুদ্ধে রাশিয়া ইউক্রেনের কিছু অংশ দখল করেছে বলে দাবি। সেই অঞ্চলের খনিজ ও ফসল অবাধে লুটপাট হয়েছে। আর তা অবৈধ উপায়ে বিদেশে বিক্রি করা হয়েছে। এমনই একটি দখলিকৃত এলাকা থেকে গম বাংলাদেশ সরকার কিনেছে বলে দাবি ইউক্রেনের। বাংলাদেশের আইনজীবী নিঝুম মজুমদারের দাবি, সাত্তার মিঞা নামে এক রাশিয়ান নাগরিক ও ব্যবসায়ী ইউক্রেনের এক দখলিকৃত এলাকা থেকে গম বাংলাদেশে পাচার করেছেন অভিযোগ উঠেছে। জানা যাচ্ছে, এই সাত্তার মিঞা নিজেকে কখনও অস্ত্র ব্যবসায়ী আবার কখনও কৃষিপণ্যের ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন। তাঁকে নিয়ে আগেও বহু বিতর্ক আছে। এবার দিল্লির ইউক্রেন দূতাবাসের অভিযোগ, ওই ব্যবসায়ী অবৈধ উপায়ে সাড়ে সাত লক্ষ্য টন গম বাংলাদেশে পাচার করেছেন। ইউক্রেনের দাবি, তাঁদের প্রশাসন ও বাণিজ্য মন্ত্রককে অন্ধকারে রেখেই এই চালান বাংলাদেশে পৌঁছে গিয়েছে এবং খালাস হয়েছে। যা মারাত্মক একটা অভিযোগ।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কৃষি মন্ত্রকের দায়িত্বেও রয়েছেন। অভিযোগ তিনিই প্রভাব খাঁটিয়ে এই চালান পাস করিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরে। আরও অভিযোগ উঠছে, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সেনার প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার কামরুল হাসানের অত্যন্ত ঘনিষ্ট এই রাশিয়ান-বাংলাদেশী ব্যবসায়ী সাত্তার মিঞা। ফলে তাঁদের যোগাসাজোসে সহজেই ইউক্রেন থেকে চুরির গম বাংলাদেশ সরকার কিনে নিয়েছে। এই খবরটি এশিয়া পোস্ট প্রথম প্রচার করেছে। যদিও এটা নিয়ে বাংলাদেশের তরফে কোনও মন্তব্য আসেনি। ইউক্রেন দূতাবাস যে চিঠি দিয়েছে, তার কোনও জবাব বাংলাদেশ সরকার দিয়েছে কিনা সেটাও জানা যায়নি।












Discussion about this post