পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সস্ত্রীক সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গত শনিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করে আসেন জেনারেল ওয়াকার। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবনে জেনারেল ওয়াকারের যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশজুড়ে হইচই শুরু হয়েছে। যদিও কোনও বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলির আগে সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করাই শিষ্টাচার। এটা বহু আগে থেকেই হয়ে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম কিছু করেননি জেনারেল ওয়াকার। তবে বিতর্ক কোথায়? আসলে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার যে সময় মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবনে গিয়েছিলেন, তার কিছুক্ষণ আগেই তিনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তাতেই আগামী বছর এপ্রিল মাসে ভোট ঘোষণা-সহ বন্দর-করিডোর ইস্যুতে বেশ কয়েকটি মন্তব্য করেন। প্রতিটি বিষয়েই তিনি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান এবং বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির দাবি খণ্ডন করেছেন বা তাঁদের চ্যালেঞ্জ করেছেন। সেই ভাষণের পরপরই জেনারেল ওয়াকার ও মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎকার একটু অন্য চোখে দেখতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার গত বছর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরই দেশকে জানিয়েছিলেন, এখন থেকে দেশের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। ভালো-মন্দ সবকিছুর দায়ভার তাঁর। তিনিই তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-সমন্বয়ক এবং জামাত-বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের তোড়জোড় করেছিলেন। যদিও পরে জানা যায়, তিনি মুহাম্মদ ইউনূসকে এই সরকারের প্রধান পদে বসতে দিতে অস্বীকার করেছিলেন এবং আপত্তি জানিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ইউনূসই প্রধান উপদেষ্টা হন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ এক অন্ধকারময় অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যার মূলে রয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। বিগত দশ মাসে তিনি এগারোটা দেশে সফর করেছেন। প্রতিটি সফরের পরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে দাবি করা হয়, প্রচুর বিদেশী বিনিয়োগ আসছে বাংলাদেশে। বিভিন্ন দেশ তাঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে। কিন্তু আদতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্কের ঋণই বাংলাদেশের শেষ ভরসা। দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অবস্থা ভয়ানক খারাপের দিকে এগিয়েছে। অন্যান্য শিল্প, কল-কারখানা বন্ধ। বিদ্যুৎ নেই, বিদেশী মুদ্রার ভাণ্ডার তলানিতে। কিন্তু জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে মুহাম্মদ ইউনূস নিজের ঢাক নিজেই পেটালেন। বড় বড় প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিলেন। আবার ভারতের সঙ্গে সংঘাতে গিয়ে বাংলাদেশের বৈদশিক বাণিজ্য যখন প্রায় বন্ধের মুখে দাঁড়িয়ে পড়েছে, তখন তিনিই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঈদের শুভেচ্ছার চিঠি পেয়ে আনন্দে গদগদ হয়ে পড়লেন। সোশ্যাল মডিয়ায় নরেন্দ্র মোদির চিঠি প্রকাশ করে নিজের পাঠানো চিঠিও সামনে আনলেন। দেখা গেল, তাঁর চিঠিতে উঠে আসে ‘দ্বিপাক্ষিত শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার’ কথা। তিনি লেখেন, ‘আমি নিশ্চিত যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বোঝাপড়ার চেতনা, আমাদের জাতিগুলিকে আমাদের জনগণের কল্যাণের জন্য, একসঙ্গে কাজ করার জন্য পরিচালিত করবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো মুহাম্মদ ইউনূসের চিঠির এই একটি অংশই বলে দেয়, কতটা চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। তাঁরা চাইছে ফের ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে। জানা যায়, ট্রান্সশিপমেন্ট এবং স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করার মতো ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নয়া দিল্লিকে আর কয়েকটি চিঠি দিয়েছে ঢাকা।
এত কথা বলার কারণ এটা বোঝানো যে মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক মহলে বেশ চাপে। তিনি একাধিক দেশ ভ্রমণ করলেও তাঁর সমর্থন সেভাবে পাননি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে আন্তর্জাতিক মহলের চক্ষু শূল হয়েছেন তিনি। এবার দেশের ভিতরেই সংঘাতের আবহ তৈরি করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বিএনপি-সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং সেনাপ্রধানের দাবি উপেক্ষা করেই আগামী বছরের এপ্রিলে ভোট করাতে চান তিনি। অপরদিকে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের করিডোর ইস্যু নিয়ে হুমকি উপেক্ষা করেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তেও অনড় প্রধান উপদেষ্টা। সবটাই বিএনপি ও সেনাপ্রধানকে ক্ষেপিয়ে তোলার পক্ষে যথেষ্ট। ইউনূসের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের পরও সেনাপ্রধান সৌজন্য সাক্ষাৎ করে আসেন বাংলাদেশের প্রশাসনিক প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত তিনি নিজের কাজ এবং পদের মর্যাদার প্রতি দায়বদ্ধ। তার মানে এই নয় যে তিনি পরবর্তী সময়ে কঠিন পদক্ষেপ নেবেন না। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী এক-দুই মাসে বাংলাদেশে বড় কিছু ঘটতেই পারে। কারণ, সেনাপ্রধান বলেছিলেন, বাংলাদেশের ভালো-মন্দের দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধেই নিয়েছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post