একসময় গোটা জঙ্গলমহলজুড়ে দাপিয়ে বেড়াতো মাওবাদীরা। তাঁদের আতঙ্কে ঘরবন্দি থাকতে হতো ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের একটা বড় অংশের মানুষদের। এখন মাওবাদী সমস্যা অতীত। জঙ্গলমহলে নেই মাওবাদীদের অস্তিত্ব। কিন্তু বর্তমানে যে সমস্যা মাথাচাড়া দিয়েছে, সেটা নিয়েই জেরবার ঝাড়গ্রামবাসী। আগামী ২৫ মে লোকসভার ভোটগ্রহন ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ায়। কিন্তু হাতির তাণ্ডব নিয়ে সাধারণ মানুষের মতোই চিন্তিত নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের বন দফতর। ফলে ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রের ২০০টি বুথকে হাতি প্রবণ বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই মতো বন দফতরকে প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লোকসভা ভোটের আগে থেকেই ঝাড়গ্রামে দাপিয়ে বেরাচ্ছে প্রায় ১৫০ দলমার দামাল হাতি। তাঁদের সামলে সুষ্ঠভাবে ভোট করানোই এখন মূল চিন্তা বন দফতরের। একসময় মাওবাদী অধ্যুষিত জেলা হলেও এখন মাথা ব্যাথার কারণ হাতি। বর্তমানে মুহুর্মহু হাতির হানায় নাজেহাল ঝাড়গ্রামবাসী। কিন্তু ভোট চলাকালীন যদি হাতির দল আক্রমণ করে বা গ্রামে ভোটগ্রহন কেন্দ্রের কাছাকাছি চলে আসে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের মনে। বন দফতর সূত্রে খবর, ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে যে বনঞ্চল রয়েছে তা চারটি ডিভিশনে বিভক্ত। আর এই চারটি ডিভিশনে প্রায় ১৫০টির মতো জঙ্গলি হাতি অবস্থান করছে এই মূহুর্তে। ঝাড়গ্রামে ডিভিশনে রয়েছে ৭৩টি হাতি, খড়গপুর ডিভিশনে ২২টি হাতি এবং মেদিনীপুর ও রূপনারায়ণ ডিভিশনে ২-৩টি করে হাতি রয়েছে। যারা যে কোনও সময় লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। বন দফতরের কর্তা পার্থ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভোটগ্রহনের দিন এই হাতির মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় হাতিদের যে করিডর রয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করে ঝাড়গ্রাম ডিভিশনের ১৪০টি বুথকে হাতি প্রবণ ঘোষণা করা হয়েছে। আর বাকি তিনটি ডিভিশন মিলিয়ে মোট হাতি প্রবণ বুথের সংখ্যা ২০০টি। ঝাড়গ্রাম জেলায় বন দফতরের যে পাঁচটি রেঞ্জে হাতির গতিবিধি রয়েছে, তার প্রতিটিতে একটি করে মোবাইল টিম মোতায়েন থাকবে। এবং প্রতি রেঞ্জে ২টি করে হুলা পার্টি রাখা হচ্ছে। যাতে ভোটগ্রহন কেন্দ্রের আশেপাশে হাতির গতিবিধি লক্ষ্য করা গেলেই তাঁদের সরিয়ে দেওয়া যায়। এছাড়া আপাতকালীন পরিস্থিতির জন্য রিজার্ভে রাখা থাকবে ৩টি করে গাড়ি। জঙ্গলের হাতি তাড়ানোর জন্য ঐরাবত নামে যে বিশেষ গাড়ি রয়েছে, সেগুলিও প্রয়োজনে পাঠানো হবে দ্রুত। পাশাপাশি বন দফতর এখন থেকেই জঙ্গলমহলে হাতিদের গতিবিধির উপর বিশেষ নজর রাখছে।
বন দফতর জানিয়েছে, মূলত ভোরের দিকেই হাতির আক্রমণ বেশি হয়। আর ভোরের দিকেই ভোটের লাইনে বেশি মানুষ দাঁড়ান। ফলে ভোর রাত থেকেই জঙ্গলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হবে ভোটের দিন। এর জন্য বসানো হচ্ছে ড্রপ গেট। বন দফতরের কর্মীরা সেই সব এলাকায় নজরদারিতে থাকবেন। হাতিদের কোনও রকম গতিবিধি দেখলেই তাঁরা হুলা পার্টিকে ডাকবেন। সবমিলিয়ে ভোটের দিন যাতে ভোটার বা ভোটকর্মীদের কারও কোনও ক্ষতি না হয় তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজ্যের বন দফতর। এই সব দেখে ঝাড়গ্রামের সাধারণ মানুষের বক্তব্য, মাওবাদীদের সময়েও বোধহয় এত নাজেহাল হতে হয়নি প্রশাসনকে, এখন হাতির ভয়ে যতটা ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।












Discussion about this post