কার্যত উড়ে এসে জুড়ে বসা মুহাম্মদ ইউনূস অবশ্যই একজন বড় মাপের অর্থনীতিবিদ। শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছেন। কিন্তু চলতি বছর মার্চ মাসে চিনে গিয়ে করা তার এই মন্তব্য যথেষ্ট সমালোচিত হচ্ছে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে। মুহাম্মদ ইউনূস কোন দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছিলেন যে বাংলাদেশ সমুদ্রের রাজা সেটা একমাত্র তিনিই জানেন। পাশাপাশি তাঁর সেভেন সিস্টার্স নিয়ে লাগাতার মন্তব্য ভারত সরকার যে খুব ভালোভাবে নিচ্ছে না এটা পরিষ্কার। গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল তার মধুর বদলা নিয়েছে ভারত অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে। মাত্র চার দিনের যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের ভিতর ৯ টি জঙ্গি ঘাঁটি ও ১১ টি সামরিক ও বিমান ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের এমনও দাবি, ভারত পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করেছে। সেই কারণেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার দাবি করছেন “ভারত আর পাকিস্তানের পরমাণু ব্ল্যাকমেইল সহ্য করবে না’।
হয়তো ভাবছেন বাংলাদেশের প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু করে আচমকা পাকিস্তানের অপারেশন সিঁদুর সম্পর্কে কেন বলতে শুরু করেছি। এর কারণ অতি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের চিকেন নেক সংলগ্ন আলিপুরদুয়ারে একটি জনসভায় দাবি করেছেন, অপারেশন সিদুর এখনো বন্ধ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এই হুঁশিয়ারী পাকিস্তানকে দিলেও আদতে তা ছিল বাংলাদেশের জন্য। কারণ বাংলাদেশও এখন জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্যে রূপান্তরিত হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে। আর অপারেশন সিদুর মূলত জঙ্গিদের বিরুদ্ধেই পরিচালিত করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
বিগত ৯ মাসে মুহাম্মদ ইউনূসের রাজত্বকালে বাংলাদেশে জেলবন্দী শতাধিক জঙ্গি এবং জঙ্গিনেতাকে ছেড়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত জঙ্গি সংগঠন গুলিকেও ছাড় দিয়েছেন তিনি। হলে বাংলাদেশের মাটিতে এই মুহূর্তে খোলাখুলি ভাবে “মার্চ ফর খিলফত” ও “মার্চ ফর ফিলিস্তিন” নাম দিয়ে বিশাল কর্মসূচি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থে চোখ বন্ধ করে রাখলেও গোটা বিশ্বে নজর ছিল এই দুটি কর্মসূচিতে। ইউনুস সরকার বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে কক্সবাজার এলাকায় রাখাইন মানবিক করিডোর দিতে চাইছে রাষ্ট্রপুঞ্জকে। কিন্তু আদততা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিই হচ্ছে। যা ভারতের মাথাব্যথা না হলেও অন্য একটি বিষয় নিয়ে চিন্তিত নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেটা হল ভারতের চিকেন নেক শিলিগুড়ি করিডোরের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটি চিনকে দিয়ে আধুনিকীকরণ করতে চাইছে ইউনুস সরকার। অর্থাৎ লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটি যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলে তৈরি হয়েছিল সেটা এখন পুনর্জীবিত করতে চাইছে ইউনূস। আর সেখানে চীন পাকিস্তানের মতো ভারত বিরোধী শক্তি গুলিকে একত্রিত করে ভারতকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছেন তিনি। এটাই মেনে নিতে পারবে না ভারত সরকার। ফলে ভারত তলে তলে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে।
সূত্রের খবর, ভারতের পশ্চিম প্রান্তে অপারেশন সিঁদুর, স্থগিত হলেও বন্ধ হয়নি। কিন্তু ভারত সরকারের এই মুহূর্তে বিশেষ নজর পূর্ব প্রান্তে অর্থাৎ বাংলাদেশ সীমান্তে। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলি সূত্রে জানা যাচ্ছে শিলিগুড়ি করিডোর লাগোয়া এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে মোতায়েন করেছে এস ৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বাংলাদেশ সীমান্তে বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোরে এস ৪০০ মোতায়েন করার লক্ষ্য বাংলাদেশ নয়, তাহলে তো চিনের জন্য। অর্থাৎ উপলক্ষ্য বাংলাদেশ, লক্ষ্য চিন। এখানেই শেষ নয়, চিকেন নেক লাগোয়া হাসিমারা এয়ার বেশে পুরো এক স্কয়ার্ডন রাফাল জেট মোতায়েন করেছে ভারত। পাশাপাশি তিস্তার চড়ে “অপারেশন তিস্তা প্রহার” নামে এক ভয়ানক যুদ্ধ মহারাও দিচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এও জানা যাচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উত্তর ও পশ্চিম সেনা কমান্ড যেভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে তেমনই পূর্ব সেনা কমান্ড চাইছে বাংলাদেশকে একটা উচিত শিক্ষা দিতে। ভারত সরকার পূর্ব সেনা কমান্ডকে সর্বোচ্চ যুদ্ধাবস্থায় রেখে দিয়েছে বলেই খবর। যদিও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটা চিনকে বার্তা দিতেই করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এর মধ্যে ঢুকে পড়েছে শুধুমাত্র মুহাম্মদ ইউনূসের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে। এখন দেখার বাংলাদেশের দিকে অপারেশন সিঁদুর নাকি অপারেশন তিস্তা প্রহার কোনটা চালু করে ভারতীয় সেনাবাহিনী?












Discussion about this post