ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ভারতে। গুজরাটের আহমেদাবাদের মেঘানিনগর এলাকায় ভেঙে পড়ল যাত্রীবাহী বিমান। সূত্রের খবর, এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান অহমদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাচ্ছিল। রানওয়ে থেকে কিছুটা দূরেই ওই বিমান ভেঙে পড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৭ নাগাদ আমদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে ওড়ার সময় দুর্ঘটনাটি হয়। আহমেদাবাদের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বিমানটিতে ২৪২জন যাত্রী ছিলেন। যেখানে বিমানটি ভেঙে পড়ে সেটি জনবসতিপূর্ণ এলাকা। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে, এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটিতে ২৪২ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে ২৩০ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। যার নম্বর এআই-১৭১। আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে দুপুর ১:১০ মিনিটে উড়েছিল অভিষপ্ত। ওড়ার সাত-আট মিনিটের মধ্যেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। ফলে সেটি বেশি উচ্চতায় পৌঁছোতে পারেনি। তার আগেই মাটিতে আছড়ে পড়ে বিমানটি। দুর্ঘটনাস্থল লোকালয় হওয়ায় অনেকেরই প্রাণহানি হতে পারে বলে আশঙ্কা। দ্রুতই ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যায় দমকল ও পুলিশের দল। সেই সঙ্গে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। গুজরাট পুলিশ মেঘানিনগর এলাকার সমস্ত রাস্তা আটকে দিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। আশেপাশের সবকটি হাসপাতালকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসার চিত্রও ধরা পড়েছে। তবে আহতরা ওই বিমানের যাত্রী নাকি স্থানীয় বাসিন্দা সেটা জানা যায়নি। বিভিন্ন ভাইরাল ভিডিওতে যে চিত্র সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বিমানটি খুব বেশি উচ্চতায় উড়তে পারেনি। তার আগেই নিচের দিকে নামতে শুরু করে এবং মাটিতে আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে আগুনের গোলা আকাশ ছেয়ে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা।
জানা যাচ্ছে, ওই বিমানে ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানী। তবে এই খবরের সত্যতা এখনও জানা যায়নি। ইতিমধ্যেই গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেলকে ফোন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গুজরাত সরকারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই গুজরাতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, বিমানটি যেহেতু লন্ডন যাচ্ছিল তাই প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি ছিল। এত পরিমাণ জ্বালানি থাকার ফলেই আগুনের তীব্রতা এতটা বেশি। এই মাত্রায় জ্বালানি থাকায় জনবহুল এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেক বেশি হবে। স্থানীয় সূত্রে খবর, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গোটা বিমানই প্রায় পুড়ে ছাই। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিমানের অংশ। ফলে বিমানের যাত্রীদের বেঁচে থাকার আশা অতি ক্ষীণ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২০৪ জনের দেহ পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ বহু।












Discussion about this post