কথায় আছে দু-নৌকায় পা দিয়ে চলাটা বিপদজনক, কারণ কোন না কোন এক সময় আপনি নদীতে পড়ে ডুববেনই। কিন্তু যা একেবারেই অসম্ভব তাই করতে চলেছেন ইউনূস সাহেব। একই সময়ে তিন বাঘের পিঠে চাপতে চলেছেন তিনি। পাকিস্তানের হাত তো আগেই ধরেছিলেন, এবার আমেরিকা আর চীন। তবে বিপদের শুরুটা হয়েছিল হাসিনার আমল থেকেই, হাসিনাও পাগল ইউনূসের মত সেভেন সিস্টারস নিয়ে মাঝে মাঝে ভারতকে ভয় দেখিয়েছেন,তবে সেটা বিভিন্ন দাবী দাওয়া আদায়ের জন্য। ভারতকে এত দোষ দেয়, বাংলাদেশে থাকা ভারত বিরোধীরা। আপনারা জানেন কি, আপনাদের সরকারী যে ঋনের বোঝা সেটা কাদের থেকে নেওয়া। চীনের থেকে। আর সব থেকে বেশী ব্যবসা চীনের সঙ্গে।
বাংলাদেশের ৮৫ শতাংশ যুদ্ধ সরঞ্জাম চিন থেকে। পিনাকী বাবুদের বোগাস মিশন ছিল ভারতের পন্য বয়কট করার আন্দোলোন, আরে দাদা ঐ পন্যটিও চীনের তৈরী,যেটিকে ভারতের নাম দিয়ে চালোনো হয়েছে । চিনই এমন দেশ যে, ভারতের যে কোন পন্যের নকল করে ভারতীয়দের কাছেই বিক্রী করে।চীনের দখলদারী নীতির খপ্পর থেকে বাঁচাতে, ভারত বাংলাদেশকে সাবধান করার চেষ্টা করেছে মাত্র।এবং সেগুলিও উদাহরণ দিয়ে। যেমন শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, মায়ানমার এবার বাংলাদেশ, নেপালও আছে লিস্টে। এই সব দেশে চীন কী করেছে খবর রাখার চেষ্টা করুন। আর ভারত তো বাংলাদেশ নিয়ে মাথা ঘামাতে ব্যস্ত নয়, আপনাদের ভিতরের ব্যাপার আপনারা বুঝুন।যেদিন ভারতের সীমান্ত সুরক্ষিত হয়ে যাবে,কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে, সেদিন ভারতের পাশে বাংলাদেশ বলে একটি দেশ আছে ভারতের সেটিও মনে রাখার প্রয়োজন হবে না।যে চিনের সঙ্গে এত দহরম মহরম, সেই চীন ১৯৭১ এ বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়নি। দিয়েছে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর।
তাই তো বিএনপির ওয়ান চাইনা মিশন এখনও চালু আছে। আর চিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়ানো মানেই আমেরিকার সঙ্গে বিরোধ । আর আমেরিকা ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ এ দুর্ভিক্ষের সময়, খাদ্য পন্য ভর্তি জাহাজ পাঠিয়েও ফিরিয়ে নিয়েছিল। পাকিস্তান-বাংলাদেশ নিয়ে কি বলার আছে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের থেকে কে বেশী জানে পাকিস্তানকে। কিন্তু বড় প্রশ্ন বাংলাদেশে রাজত্ব করবে কারা, এখনতো রাজত্ব করা মানে আর ভূমি দখল করা নয়।যদিও আমেরিকার সঙ্গে যে দুটি চুক্তি হতে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের ভূমিও আমেরিকা সামরিক কারণে ইচ্ছা মত ব্যবহার করতে পারবে। বাংলাদেশ শেষ ৫৪ বছরে কাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। আর ভবিষ্যতে কাদের সঙ্গে যুদ্ধ হবে,যে পাকিস্তান আমেরিকা থেকে বহু অর্থ ব্যয় করে সমরাস্ত্র কেনার প্রয়োজন হচ্ছে।সঙ্গে চীন থেকেও অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া তরান্বিত করা হচ্ছে।আগামী ২৬ তারিখ চীন সফরের আগেই ইউনূস চাইছেন আমেরিকার সঙ্গে যে দুটি অস্ত্র চুক্তি বহুদিন ধরেই আটকে ছিল, তা দ্রুত শেষ করতে। আমেরিকাও বরাবরই চাইছে বাংলাদেশ তাদের অচল অস্ত্রগুলি কিনুক।
আমেরিকা এই চেষ্টা বহুবার করেছে।বাংলাদেশের ততকালীন বিদেশমন্ত্রী আব্দুল মোমিন সাহেব বলেছিলেন, আমাদের মত দেশের অস্ত্রের প্রয়োজন নেই, আমেরিকা চাইলে তাদের অন্য যে সমস্ত উন্নত প্রযুক্তিগুলি আছে সেগুলি দিয়ে সাহায্য করতে পারে। আসলে যুদ্ধ করার জন্য বাংলাদেশের বিশাল সেনা এবং আধুনিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই।তবে একটি স্বাধীন সার্বোভৌম দেশে একটি নিদৃষ্ট সেনা এবং সমরাস্ত্রের প্রয়োজন নিশ্চয় আছে।কিন্তু সেটি দেশের সুরক্ষা কতটা বিপদের মুখে আছে সেটি দেখে। আসলে এতদিন সেনাবাহীনি যেটা করেছে সেটা হল দেশের রাষ্ট্রপতিদের হত্যা, আর ভ্যুঁয়ারা অস্ত্র কেনার নাম করে ব্যঙ্ক ব্যালেন্স বাড়িয়েছেন। একদিন তো বাংলাদেশের জনগনের কাছে এটা জাস্টিফাই করতে হবে, যে এত এত অর্থ ব্যায় করে অস্ত্র কেনার প্রয়োজনটা কি। বাংলাদেশের শিক্ষিত মানুষরা দেশে কিছু করতে পারছে না, কিন্তু বিদেশে তারা বড় বড় ডাক্তার ইঞ্জিনিয়র, এবং তারা যেকোন দেশের থেকে অনেক দক্ষ। আসলে বাংলাদেশে এই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা রাখাই হয়নি, কারণ মাদ্রাসা শিক্ষার বাইরে অন্য কিছু থাকলে তো মৌলবাদের প্রচার করা যাবে না। একদিন এই মৌলবাদই বাংলাদেশের কাল হবে।











Discussion about this post