উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় বন্যা বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ দিতে গিয়ে প্রকাশ্যে ভয়ঙ্কর হামলার মুখে পড়েন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। পাথরের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত হন সাংসদ খগেন মুর্মু। তার নাক মুখ ফেটে রক্ত ঝরছে। রক্তে ভিজে গেছে তার জামা ও রুমাল। ভেঙে দেওয়া হয় তার গাড়ির সমস্ত কাঁচ। পাশাপাশি ধাক্কা ও চড় মারা হয় বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে। তৎক্ষণাৎ সেইখান থেকে খগেন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষকে স্থানীয় এক স্বাস্থ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেইখান থেকে শিলিগুড়ির এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, খগেন মুর্মুর চোখের নিচের অংশের একটি হাড় ভেঙে গিয়েছে এবং যা খুব শ্রীগ্রই অস্ত্রপ্রচার প্রয়োজন হতে পারে। সোমবার থেকেই তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার একাধিক স্ক্যান ও মেডিক্যাল টেস্ট চলছে। তার শারীরিক অবস্থা উদ্বেকজনক হলেও নিয়ন্ত্রণে আছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। অন্যদিকে বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের মাথায় আঘাত থাকলেও তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ।
হামলার ঘটনায় ক্যামেরাবন্দি রয়েছে হামলাকারীরা। অথচ তারপরেও এখনো পর্যন্ত গ্রেফতারি শুন্য। যা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। যা বঙ্গ বিজেপির তরফ থেকে আগেও বহুবার করা হয়েছিল। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছে। আর এই ঘটনা এই প্রথম নয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষোভ উগরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে হামলাকারী চারজনের ছবি দিয়ে লেখেন, তৃণমূলের সেই এক সন্ত্রাসবাদ মডেল। দেখুন কাদের ব্যবহার করা হয়েছে সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর নির্মম প্রাণঘাতী আক্রমণ ঘটাতে। এই চারজন হলেন সইফুল হক, আইনুল আনসারী, রমজান আলী ও পিঙ্কি খাতুন। ঠিক যেইসব দুর্বৃত্তদের এনেছিল কোচবিহারের খাগড়াবাড়িতে আমার ওপর আক্রমণ করতে একইভাবে সেই বিশেষ সম্প্রদায়ের কিছু উশৃঙ্খল আইন অমান্যকারীদের পরিকল্পিতভাবে জড়ো করা হয় এই ঘৃণ্য অপরাধ অরাজকতা ঘটাতে। এরা নিজেরাই আতঙ্কিত যে মমতার সরকার চলে গেলে এদের বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যাবে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আতঙ্কিত এদের ছাড় না দিলে এরা ঘটি উল্টে দেবে। এরা একে ওপরের পরিপূরক।
ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সহ বিজেপির শীর্ষ কর্তারা। রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। পাশাপাশি ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে সিপিআইএমের তরফ থেকেও।
অন্যদিকে তৃণমূল বিধায়ক ও উত্তরবঙ্গের উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ পাল্টা বলেন, যে দুজন সাংসদ ও বিধায়ক নাগরাকাটার গেছিলেন তাদের সাথে নাগরাকাটার মানুষের কোনো চেনা জানা নেই। কি করে জানবে কে তৃণমূল কে সিপিএম?
এই হামলার পর উত্তরবঙ্গ জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। পাশাপাশি তোলপাড় হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি।












Discussion about this post