‘ছোট্ট একটা ঘটনা ঘটলেই গেল গেল রব ওঠে’। কসবা গণধর্ষণ ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুঁইয়া। যা নিয়ে কম তোলপাড় হচ্ছে না। যদিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টিও খেলেন প্রবীন এই তৃণমূল নেতা। কিন্তু শাসকদলের অস্বস্তি গেল কি?
কসবায় ল’ কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার আবহে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। মঙ্গলবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘ছোট্ট একটা ঘটনা ঘটলেই গেল গেল রব ওঠে’। যা নিয়ে গোটা রাজ্য তোলপাড়. পাশাপাশি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে বিঁধতে ছাড়ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও। রাজ্যের মানস ভূঁইয়া বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া কয়েকটি নারীঘটিত ঘটনার উদাহরণ টেনে গণধর্ষণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি এও বলেছিলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একজন নেত্রী, যিনি বরাবরই এই ধরণের ন্যা্ক্কারজনক ঘটনার দ্রুত পদক্ষেপ করেন।
কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি মানসের মন্তব্যের প্রসঙ্গে এককালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলা একটি মন্তব্যের মিল খুঁজে পেয়েছেন। ২০১২ সালে পার্কস্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছিলেন “এটা একটা ছোট্ট এবং সাজানো ঘটনা”। তাঁরই দলের মন্ত্রীর কাছ থেকে আর কি আশা করা যায়? প্রশ্ন বিজেপি-বাম দলগুলির। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেতাদের এই ধরণের মন্তব্য নতুন কিছু নয়। আর জি কর ইস্যুতেও শাসকদলের বহু নেতা নানা ধরণের মন্তব্য করেছিলেন। কসবা আইন কলেজের ভিতরে ঘটে যাওয়া গণধর্ষণের ঘটনায় যেখানে মূল অভিযুক্ত একজন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা, তখন স্বয়ং মন্ত্রী দাবি করছেন এটা একটা ছোট্ট ঘটনা। যদিও পোড় খাওয়া এই প্রবীন রাজনীতিবিদ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টি খেলেন। যখন দলই তাঁর মন্তব্য নিয়ে অসস্তিতে পড়ল। বুধবারই বিধানসভায় বসে মানস ভূঁইয়া রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেন, কসবার ঘটনার নিন্দা করি। খারাপ কাজকে আমি কখনও সমর্থন করি না। আমার কথা বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, কসবা প্রসঙ্গে ছোট ঘটনা কখনও বলিনি। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের ঘটনার কথা বলেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কত ভাল কাজ করেছেন, সেটা বলেছি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে রাজ্যে একাধিক সাড়া জাগানো ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে কয়েকটি নৃশংশ ধর্ষণের মতো ঘটনাও আছে। হাঁসখালি, কামদুনি, কাকদ্বীপ, রানাঘাট, সিউড়ি, সন্দেশখালি ও গত বছরের তোলপাড় করা আর জি কর কাণ্ড। প্রতিটি ঘটনাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেন এই ধরণের ঘটনা বড় কিছু নয়। যেমন হাঁসখালি নিয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল “আমি এই ঘটনার নিন্দা জানাই, কিন্তু আমি শুনেছি ছেলে এবং মেয়েটির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এটি কি প্রকৃত ধর্ষণ, প্রেমের সম্পর্ক, গর্ভাবস্থার ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণে?” আবার সাড়াজাগানো কামদনীর ঘটনার পর বিক্ষোভকারীদের সরাসরি মাওবাদী বলে দেগে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় যখন গোটা দেশ উত্তাল, তখনও মুখ্যমন্ত্রী একজন সিভিক ভলান্টিয়ারের গ্রেফতার নিয়ে আরও অনেককে আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। এবার কসবা ঘটনা নিয়ে যখন তাঁরই দলের একাধিক নেতা-নেত্রী কু-কথায় পঞ্চমুখ হচ্ছেন। তখন অস্বাভাবিকরকম নিরব তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী। তাই হয়তো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মানস ভুঁইয়ারা পার পেয়ে যান।












Discussion about this post