বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে, তাতে অনেকেই বলছেন এমন একটি আন্দোলন প্রয়োজন, সেটা নবান্নের ভীত আলগা করে দেবে। যদিও বিগত ১৪ বছরে বহু আন্দোলন হয়েছে। এখনও চলছে। এমনকি নবান্ন অভিযানও করেছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু তাতে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। পুলিশ জল কামান, কাদানে গ্যাস ছুঁড়ে থামিয়ে দিয়েছে, তাতে বড় জোর কয়েকটা খবর তৈরি হলেও দমানো যায়নি। কিন্তু এবার নাকি ৫ টি নবান্ন অভিযান হতে চলেছে। সেটি নাকি আবার এক মাসের কম সময়ের মধ্যে। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যদি এই তীব্রতা সেই জায়গায় পৌঁছয় তবে নবান্নের ভীত নড়তে বাধ্য। এমনকি এর মাধ্যমে সরকারের কার্যকলাপ যেমন সামনে আসবে সাধারণ মানুষের কাছে, তেমন ভাবেই বিরোধীরা কি ভাবছে, তারা কি করতে চায়, সেটা পরিষ্কার হবে। তবে কি ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই খেলা ঘুরে গেল বঙ্গে? কেউ কেউ আবার কটাক্ষ করে বলছেন, বিসর্জনের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই কি জানা যাচ্ছে এই বিষয়ে, চলুন আলোচনা করা যাক।
জানা যাচ্ছে, ১৪ ই জুলাই চাকরিহারাদের নবান্ন অভিযান। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম নির্দেশে চাকরি চলে গিয়েছে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের। যোগ্য অযোগ্য বাছাই করা যায়নি। এতে ক্ষোভ বেড়েছে চাকরিহারাদের। সেই কারণেই ১৪ই জুলাই তারা নবান্ন অভিযানার ডাক দিয়েছে বলে খবর। এক্ষেত্রে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এবারও পুলিশ তাদের কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান দিয়ে তাদের আটকে দেবে। শুধু তাই নয়, তাদের উপর লাঠিচার্জ হলে নিশ্চিতভাবে সামাজিক এবং রাজনৈতিক অভিঘাত তৈরি হবে। সেটা রাজ্য প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের উপর অস্বস্তি তৈরি করবে নিশ্চিতভাবে।
অন্যদিকে আরও একটি আন্দোলনের কথা জানা যাচ্ছে। সেটা হয়তো সরাসরি নবান্ন অভিযান নয়, তবে সেখান থেকে নবান্নের দিকে যে কামান দাগা হবে সেটা স্পষ্ট। ১৮ই জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যে এসে সভা করবেন দমদমে। আর সেক্ষেত্রে যে রাজ্যের শাসকদলের অস্বস্তি বাড়বে, সেটা বলাই বাহুল্য।
এদিকে তার দু দিন পর ২১ জুলাই। বাংলার প্রত্যেকটা গণমাধ্যমের নজর তৃণমূলের জনসভার দিকে। কিন্তু তৃণমূলকে সেই ফুটেজ দিতে নারাজ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নাকি উত্তরকন্যা অভিযান করবেন তিনি। এমনিতেই উত্তরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। এবার সেই অভিযান করলে খানিকটা চাপে থাকবে শাসকদল।
অন্যদিকে ২৮ জুলাই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে। অনেকদিন ধরেই তারা ডিএ এর জন্য প্রতিবাদ করছে। এবার দেখা যাচ্ছে, তারা নবান্ন অভিযানের জন্য ডাক দিয়েছে।
শেষ জানা যাচ্ছে, ৯ অগাষ্ট আরজিকরের ঘটনায় অভয়ার বাবা, মাকে নিয়ে নবান্ন অভিযান করবেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও সেটা শেষ পর্যন্ত হবে কিনা সেটা প্রশ্নাতীত। যদিও বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, দলের পতাকা ছাড়াই এই অভিযান করা হবে।
ওয়াকিবহাল মহল বলছে, বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এতগুলো অভিযান যদি দু একটাও সফল হয়, তবে এর প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনে। এছাড়াও চাপে পড়বে খানিকটা শাসক দল। এমনিতেই কসবা কাণ্ড নিয়ে অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। তার মধ্যে বিরোধীরা এবং চাকরিহারা ওডিএ প্রার্থীরা আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়ালে নিশ্চিতভাবে চাপে পড়বে শাসকদল।












Discussion about this post