কেষ্ট ফেরায় ফিরেছে কালীপুজোর জাঁকজমকও। বোলপুরে তৃণমূল কার্যালয়ে ‘কেষ্ট-কালী’ এ বার ঝলমল করছেন প্রায় ৬০০ ভরি সোনায়। ২০২২ সালের আগস্ট মাসে গরু পাচার মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিল বীরভূমের বাঘ অনুব্রত মণ্ডল। তার পর থেকেই বোলপুরের নিচুপট্টিতে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় তথা তাঁর বাসভবনে কালীপুজোর জাঁকজমক হারিয়ে গিয়েছিল। বোলপুরে তৃণমূল দলীয় কার্যালয়ের কালীপুজো মানেই তা কেষ্টর পুজো। পুজোকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহের শেষ নেই। গরু পাচার মামলায় তিহাড় জেলে বন্দি থাকার জন্য ২০২২ এবং ২৩ সালে এই পুজোর জৌলুস হারিয়েছিল। নামমাত্র গয়নায় মাকে সাজিয়ে পুজো করা হয়েছিল কার্যত নমো নমো করে। সে সময় তৃণমূল কর্মীরা দাবি করেছিলেন কেষ্টর মা কালীকে নকল গয়না পড়ানো হয়েছে। এবার কেষ্ট ফিরেছেন পুরনো মেজাজে, সেই সঙ্গে তাঁর কালীপুজোয় ফিরল পুরনো জাঁকজমকও।
তৃণমূলের একটি সূত্র দাবি করছে, এ বার কালীকে সাজানো হয়েছে আনুমানিক ৬০০ ভরি সোনার গয়না দিয়ে। গত বার যেখানে সোনার পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৭০ ভরি। মা কালীর গলায়, হাতে, কোমরে সর্বত্রই সোনার ঝলকালনি। সেই সঙ্গে রয়েছে হিরে, চুনি, পান্না এবং বিভিন্ন রত্নখচিত অলঙ্কারও। নিন্দুকেরা বলছেন, বর্তমানে সোনার ভরি লাখ টাকার বেশি। সেখানে নতুন করে আরও ৩০ ভরি সোনা কোথা থেকে এল? যদিও এসব বিতর্কে নির্বিকার অনুব্রত বলে দিয়েছেন, মা নিজের গয়না নিজেই তৈরি করে নেন।
কালীপুজোর সকাল থেকেই বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে দেখা গেল হালকা নীল রঙের পাঞ্জাবি পড়ে পুজোর তদারকি করতে। প্রতি বছর কালীপুজোয় তিনি উপোস থাকেন। পুজো শেষ হলে সেই উপোস ভঙ্গ করেন মায়ের প্রসাদে। এবারও সেই নিয়ম অক্ষুন্ন ছিল। অনুব্রত মণ্ডল নিজেই জানালেন, তাঁর পুজোয় মাকে কি কি ভোগ দেওয়া হয়।
বোলপুরের নিচুপট্টি এলাকায় বিগত ৪৪ বছর ধরে পুজো করে আসছেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর কথায় তিনি ১৬ বছর বয়স থেকে কালী পুজোর আয়োজন করেন। নিচুপট্টিতে তৃণমূলের কার্যালয়ে তিনিই এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। প্রথমে এই কার্যালয় ছিল একতলা। পরে তা দোতলা ভবন হয়েছে। সেখানে দোতলায় আলাদা মায়ের মন্দির হয়েছে। কেষ্টর দাবি, প্রথম থেকেই তিনি মা কালীকে সাজান সোনার গয়নাতে। একটি হিসেব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ১৮০ ভরি সোনার গয়না ছিল কেষ্ট-কালীর অঙ্গে। পরবর্তী বছরগুলিতে তা বাড়তে থাকে। ২০১৯ সালে ২৬০ ভরি, ২০২০ সালে ৩৬০ ভরি, ২০২১ সালে গয়নার পরিমাণ ছিল ৫৭০ ভরি। মাঝের তিন বছর তিহাড় যাত্রার কারণে গয়নার হিসেব মেলেনি। তবে এবার কেষ্ট কালীর গয়নার পরিমান ছাড়িয়েছে ৬০০ ভরি। আদ্যোপান্ত রাজনৈতিক মানুষ অনুব্রত কালীপুজোর কয়েকটি দিন একেবারেই রাজনীতি বিমুখ থাকেন। অনুব্রতর কথায় দুর্গাপুজো-কালীপুজোর সময় রাজনীতির কোনও পাঠ মনেই রাখি না। কিন্তু তা বলে বিতর্ক কমে না। তাঁর পুজোয় মা কালীর অঙ্গে দিন দিন সোনার ভার বাড়ছে কোন উপায়ে? কেষ্ট নিজেই সোনার গয়না কেনেন, নাকি কেউ দান করেন। সেই প্রশ্নের উত্তর কেউ জানেন না। তবে কেষ্ট উবাচ বলছে, মা কালী নিজেই তাঁর গয়না জোগার করে নেন!












Discussion about this post