শান্তিপুর মানেই ঐতিহ্য ও ইতিহাস সাথে বামা কালী। বামা কালী এখন সকলের মুখে মুখে। বছরের পর বছর ধরে মায়ের অলৌকিক শক্তি বিদ্যমান। শান্তিপুর বাসি সারাবছর ধরে অপেক্ষা করে এই কালী পুজোর জন্য। কালী পুজোয় দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন মায়ের দর্শন পেতে। জাগ্রত এই দেবীর কাছে মনোস্কামনা জানালে তা পূর্ণ করেন দেবী। পুজোর দিন দূর দূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের ভিড়ে দেবীর মণ্ডপে তিল ধারণের জায়গা থাকে না।
অন্য আর পাঁচটা কালী প্রতিমার নিরঞ্জন শোভাযাত্রার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা নিরঞ্জন শোভাযাত্রা এই বামা কালী মায়ের। আর মায়ের এই শোভাযাত্রায় বামার নৃত্য দেখার জন্য ভিড় জমান হাজার হাজার দর্শক। বাড়ির ছাদে, রাস্তার দু ধারে, দোকান ও বাড়ির কার্নিশে বাচ্চা থেকে বয়স্ক সকলে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন বামা কালীর নাচ দেখার জন্য। এই গিজগিজে ভিড়ই বলে দেয় বামা কালীর জনপ্রিয়তা।
সন্ধে থেকেই ভিড় জমান দর্শকরা কিন্তু বামা আসার আগেই নিশ্চুপ হয়ে যায় পরিবেশ। বামা আসার আগে দূর থেকে দেখা যায় এক চিলতে মশালের আলো। তখনি মা – মা বলে চিৎকার করে ওঠেন অগণিত দর্শনার্থীরা। ঘুট ঘুটে অন্ধকারে বাঁশের কাঠামোয় ভক্তদের কাঁধে নিরঞ্জনের পথে এগিয়ে আসছেন বামা। তার সামনে নেই কোনও আলো। মশালের জ্বলা আগুনে মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে মায়ের অপূর্ব মুখ। সু – উচ্চ দেবী তার খোলা কোঁকড়ানো চুল সাথে টানা চোখ। দেবীর দিকে বেশিক্ষন একটানা তাকিয়ে থাকা যায়না। এই সু – উচ্চ দেবী বামা কালীকে ভক্তরা কাঁধে করে হাজার হাজার অপেক্ষারত ভক্তের মাঝে নিয়ে আসেন। এরপর শুরু হয় সেই সন্ধিক্ষণ। বামা কালী তার সই অর্থাৎ আর এক মা কালীর মন্দিরের সামনে ভক্তদের কাঁধে নেচে ওঠেন। ভক্তরা বাঁশের কাঠামো কাঁধে নিয়ে বেশ কিছুক্ষন ধরে নাচান মা বামা কালীকে। সেই নাচ দেখলে মনে হবে দেবী বামা কালী নিজেই নাচ করছেন। যা একটি রোমহর্ষক মুহূর্ত।
শান্তিপুরের বাকি পুজোগুলি বেশ কিছুদিন চললেও, পুরোনো ঐতিহ্য মেনে কালী পুজোর পরের দিনই বিসর্জন হয় বামা কালীর। কথিত আছে, শান্তিপুরের কালী নিরঞ্জন না দেখলে কালীপুজোর আনন্দ সম্পূর্ণ হয় না। তাই বামা কালী মায়ের টানে এই অন্যন্য শোভাযাত্রা দেখতে ভিড় জমান এত মানুষ। মায়ের নাচের এই মুহূর্ত চোখে জল এনে দেয়। বামার নৃত্য শেষ হওয়ার পর বামা কালী চলে যান নিরঞ্জনের পথে। তারপরেই নিস্তব্দ হয়ে যায় গোটা এলাকা। দর্শনার্থীরা পা বাড়ান বাড়ির পথে।












Discussion about this post