কলকাতা হাইকোর্ট বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ তুলে নিয়েছে। গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত নির্দেশ দেন শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে থাকা চারটি মামলায় সিবিআই ও রাজ্য সরকারকে যৌথভাবে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনন্তকাল ধরে কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ চলতে পারে না। তাই এই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে শুভেন্দু অধিকারী যে আইনি সুরক্ষা পাচ্ছিলেন তা আর বহাল থাকছে না। এছাড়াও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে ১৫ টি মামলা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বা তার আইনজীবীদের কিছু বলার থাকলে আদালতে তা লিখিতভাবে আগামী সোমবারের মধ্যে জানাতে হবে।
বেলেঘাটা, সাঁকরাইল, ঝাড়গ্রাম ও জামবনি থানায় শুভেন্দুর বিরুদ্ধে চার FIR খারিজ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেন শুভেন্দু অধিকারী। মামলার পরবর্তী শুনানি ১১ ই নভেম্বর। এই চার মামলার শুনানিতে কেস ডায়েরি তলব করল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ২০২২ শের ৮ ই ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। তাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, হাইকোর্টের কোনও অনুমতি ছাড়া শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনও FIR দায়ের করা যাবেনা এবং রাজ্য কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না শুভেন্দুর বিরুদ্ধে।
এরফলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলেও পুলিশ চাইলেও কোনও পদক্ষেপ বা কোনও FIR রুজু করতে পারেনি। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই রক্ষাকবচ কলকাতা হাইকোর্ট প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আদালতের নির্দেশে এতদিন রাজ্য সরকার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ করতে পারেনি ও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় FIR দায়ের করতে পারেনি এখন তা নির্দ্ধিধায় করার রাস্তা প্রশস্ত হয়ে গেল। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলিতে তদন্তের পথ খুলে গেছে। এখন এসব কিছুর ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ নিতে পারে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিন – চার বছর ধরে যে বাধাটা ছিল সেটা আর থাকছে না। উনি বেশি মস্তানি করে বেড়াতেন সেটা এবার বন্ধ হবে। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ গুলো ছিল তার ভিত্তিতে যদি পুলিশ FIR রুজু করে এগোতে চায় এগোবে।
এ প্রেক্ষিতে ধরে নেওয়াই যাচ্ছে শুভেন্দুর রক্ষা কবচ বহাল না থাকায় তাকে নানান আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।












Discussion about this post