নেপালের গণ-অভ্যুত্থানের আবহ টেনে ভারতেও একই রকম পরিস্থিতি হতে পারে বলে তোপ দেগেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর নিজস্ব ফেসবুকে করা পোস্ট ঘিরে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
আর কবে? আপনারাও কি আমার মত স্বপ্ন দেখেন?” এই প্রশ্ন তুলেই হুমায়ুন কবীর ফেসবুক পোস্টে ভারতের তানাশাহদের মুখোশ খুলতে চেয়েছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তিনি কি কেন্দ্রের মোদি সরকারকে নিশানা করলেন, নাকি পশ্চিমবঙ্গের মমতা সরকারকে?
নেপালের প্রধানমন্ত্রী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা পদত্যাগ ও সেনা হস্তক্ষেপের ঘটনাকে ইঙ্গিত করেই তিনি আরও লেখেন, “কবে যে আমাদের দেশের তানাশাহদের একই হাল হবে! অহিংস পথে দুর্নীতির শিরোমণিদের মুখোশ আর ফাইল খুলে যাবে!”
বিধায়কের এই বক্তব্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
প্রশ্ন উঠছে একজন বিধায়ক কেন এ ধরনের কথা বললেন?
তিনি কি কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছেন, নাকি পরোক্ষভাবে রাজ্যের শাসকদের দিকেওতীর ছুড়েছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “তানাশাহ” শব্দবন্ধটি সরাসরি মোদী সরকারের উদ্দেশে হলেও বিরোধীরা এখন তৃণমূলের দুর্নীতি প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তুলছেন।
আর ঠিক অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতাবন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উত্তরবঙ্গ সফরে যান ,নেপালের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির আবহে। তিনি নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশে সঙ্গে কথা বলেছেন। এদিকে যে সমস্ত ভারতীয়রা নেপালে আটকে পড়েছেন তারা পশ্চিমবঙ্গের পানিট্যাঙ্কিসীমান্ত দিয়েই দেশে ফিরছেন। নেপালে আটকে পড়া বাঙালিদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে তরুণ প্রজন্ম। এরপর পরিস্থিতি চলে যায় হাতের বাইরে। অন্তত ২২ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আরও তীব্র হয় আন্দোলন। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ রাতের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নেয়। জানা যায়,প্রবল চাপের মুখে পড়ে সোমবার গভীর রাতেই সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু তাতেও আন্দোলন থামেনি।
ইতিমধ্যে বিক্ষোভকারীদের একাংশ নেপালের সেনাপ্রধানের সঙ্গে মধ্যরাতে আলোচনায় বসেছিলেন। সেনাপ্রধান তাঁদের দাবিদাওয়া সম্পর্কে শোনেন। সেই প্রেক্ষিতে বুধবারই রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্রপৌডেলের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তার আগে প্রতিবাদীদের কড়া বার্তা দিয়ে সেনা স্পষ্ট করে জানিয়েদিয়েছেন যে, কোনওরকম ভাঙচুর, লুটপাট বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বাহিনী তরফ থেকে।
এদিকে সেনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর ও সরকারি সচিবালয় এবং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সীমান্ত । শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার গাড়ি যেমন, অ্যাম্বুল্যান্স বা শববাহী গাড়িকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।












Discussion about this post