১১ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হল বিধাননগরের তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে। দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসী কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন সব্যচাসী দত্ত। সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট শুধু খারিজই করল না, উল্টে ১১ হাজার টাকা জরিমানাও করলো মামলাকারী তৃণমূল নেতাকে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মামলার কোনও আইনগত ভিত্তি নেই, শুধু শুধু আদালতের সময় নষ্ট করার চেষ্টা।
বিধাননগর কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের অভিযোগ, গত ৩০ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসী কার্তিক মহারাজ। এই মন্তব্যের ভিত্তিতেই কলকাতা হাইকোর্টে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে মামলাটি। শুনানি চলাকালীন দুই বিচারপতির কড়া প্রশ্নবাণের মুখে পড়তে হয় মামলাকারীর আইনজীবীদের। এ ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, “এ ধরনের মামলার মাধ্যমে শুধু আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে। এটা বরদাস্ত করা যায় না।” এমনকি আদালতের পর্যবেক্ষণ, কার্তিক মহারাজ একজন সন্ন্যাসী ও জনসেবায় যুক্ত ব্যক্তি। তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক হতে পারে, কিন্তু তা সরাসরি মানহানির পর্যায়ে পড়ে না। তাই এমন মামলার কোনও ‘মেরিট’ নেই বলেই জানিয়ে দেন বিচারপতিরা। এরপরই মামলাকারী সব্যসাচী দত্তকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।
শীর্ষ আদালতের এই রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা। বিরোধীদের বক্তব্য, রাজ্য সরকার বা মুখ্যমন্ত্রীর কোনও কাজ বা মন্তব্যের বিরোধিতা করলেই হেনস্থা করা হচ্ছে। কখনও পুলিশে এফআইআর করে আবার কখনও আদালতে মামলা করা হচ্ছ। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। আর রাজ্য প্রশাসনকেও ব্যবহার করা হচ্ছে কোনও কোনও ক্ষেত্রে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতে একের পর এক মামলা দায়ের হচ্ছে। ছাড় দেওয়া হচ্ছে না সাধু-সন্নাসীদেরও। কার্তিক মহারাজ মুখ্যমন্ত্রীর সভায় যান না, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাজকর্মের সমালোচনা করেছিলেন। তাই তাঁর মতো সন্নাসীকেও আদালতের দরজায় টেনে নিয়ে গেল তৃণমূল, এমনটাই দাবি বিজেপির।
যদিও কার্তিক মহারাজকে নিয়ে রাজনৈতিক তর্ক –বিতর্ক নতুন কিছু নয়। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছিলেন এক মহিলা। চলতি বছরের জুন মাসেই চাকরি দেওয়ার নাম করে অভিযোগকারীনী বেলডাঙা ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসী কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে নবগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। যদিও সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে অস্বীকার করেছিলেন পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত সন্নাসী কার্তিক মহারাজ। এর আগে তিনি একটি জনসভায় বলেন,যে দল হিন্দুদের নিয়ে কথা বলবে, তাদেরই সমর্থন করব। কার্তিক মহারাজ তার বক্তব্যে বলেন, আমরা হিন্দু ধর্মকে রক্ষা করতে চাই। যে দল আমাদের ধর্ম ও দেশের জন্য কাজ করবে,আমরা তাদেরকেই সমর্থন করব।
একজন সন্ন্যাসী হয়ে কি করে রাজনৈতিক দলের প্রচার করেন। সেই অভিযোগ আগেই তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিভিন্ন সময় কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। এবার তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা দায়ের করেছিলেন সব্যসাচী দত্ত। কিন্তু এই মামলাও খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এরপরই শাসক দলকে আক্রমণ করেন বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘সত্য প্রতিষ্ঠা পায়। ভারতীয় বিচারব্যবস্থা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ন্যাসীকে কালিমালিপ্ত করা চেষ্টা করেছিলেন।’ এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শাসক দলের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলেই জানা যাচ্ছে।রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কার্তিক মহারাজকে নিয়ে শাসকদল তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে তু তু ম্যায় ম্যায় অব্যাহত।












Discussion about this post