শমীক ভট্টাচার্য বঙ্গ বিজেপির সভাপতি হওয়ার পরই পরিবর্তনের এই ইঙ্গিতটা পাওয়া গিয়েছিল। এবার দূর্গাপুরের সভায় এসে বঙ্গ বিজেপির নতুন অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘খাঁটি বাঙালি’র মতো বাংলায় ভাষণ শুরু করলেন মা দুর্গা এবং মা কালীর নাম নিয়ে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ভালো ফল করা এবং এই রাজ্যেও ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবার কার্যত কোমর বেঁধেই নেমেছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। যার প্রমান বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর দুটি সফর। এবার দুর্গাপুরে এসে তিনি যেমন সাতটি প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন, তেমনই আগামীর নির্বাচনে দলের লক্ষ্যও স্থির করে গেলেন। এদিন ‘জয় মা কালী’ বলে বক্তৃতা শুরু করলেন নরেন্দ্র মোদি। তারপরেই বললেন, বিজেপি বিকশিত বাংলা চায়। বাংলার এই মাটি প্রেরণায় পূর্ণ। বিজেপি সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ তৈরি করতে চায়। রীতিমতো, বাংলা ভাষাতেই প্রধানমন্ত্রী বললেন, বাংলা পরিবর্তন চায়। বাংলার উন্নয়ন চায়।
দুর্গাপুরের নেহরু স্টেডিয়ামের মঞ্চ থেকে নানা ইস্যুতে রাজ্যের শাসক শিবিরকে তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী। আর জি কর ইস্যু থেকে শুরু করে কসবার আইন কলেজে ধর্ষণের ঘটনা, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, মুর্শিদাবাদের অশান্তি, তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে কোনও কিছুই বাদ দিলেন নরেন্দ্র মোদি। বর্তমানে যে ইস্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবচেয়ে সরব, সেই বাংলাভাষী ও বাংলাদেশী ইস্যুতেও চরম আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের হয়ে সরাসরি নেমে পড়েছে তৃণমূল। কান খুলে শুনে রাখুন, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সংবিধান অনুযায়ীই পদক্ষেপ করা হবে।
তাঁর ভাষণে উঠে এসেছে আর জি কর ও কসবা ধর্ষণ প্রসঙ্গও। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার হাসপাতালও মেয়েদের জন্য সুরক্ষিত নয়। তখনও দেখা গিয়েছে, কী ভাবে অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছে তৃণমূল। এর পর কলেজেও একটা মেয়ের উপর কী ভাবে অত্যাচার চালানো হল। সেখানে দেখা গেল তৃণমূলের লোকেরা জড়িত। এখানেই শেষ নয়, মুর্শিদাবেদের হিংসার প্রসঙ্গ তুলেও শাসকদল তৃণমূলকে প্রবল আক্রমণ করেন বিজেপি অন্যতম মুখ। মুর্শিদাবাদ নিয়ে রাজ্যের পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। মোদির কথায়, মুর্শিদাবাদের মতো ঘটনা ঘটলে পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করে। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, তৃণমূলের গুন্ডাগিরির জন্যই এখানে উদ্যোগপতিরা আসেন না। তৃণমূলকে সরাতেই হবে। সিন্ডিকেটরাজ দেখেই পালিয়ে যান বিনিয়োগকারীরা। প্রাথমিক শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা সব রসাতলে যাচ্ছে তৃণমূল জমানায়।
এরপরেই প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছে ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রসঙ্গ। তিনি বঙ্গবাসীকে স্মরণ করিয়ে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই বাংলা দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্য হয়ে উঠবে। এটা আমার বিশ্বাস। কিন্তু তৃণমূল বাংলাকে শিল্পবান্ধব হতে দিচ্ছে না। তাই তৃণমূল বাংলা থেকে সরাতে হবে। পশ্চিমবঙ্গকে এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যাতে, এখানে নতুন বিনিয়োগ আসে। কর্মসংস্থান তৈরি হয়। কিন্তু যত দিন তৃণমূল থাকবে, তত দিন এ সব হবে না। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এদিনের জনসভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী বিজেপি নেতা-কর্মীদের জন্য নির্বাচনের সুর বেঁধে দিলেন। কোন কোন বিষয়ে শাসকদলকে আক্রমণ করতে হবে, বাঙালি আস্মিতা বজায় রেখে হিন্দুত্বের চরা সুর যে বাংলায় অচল সেটাও বুঝিয়ে গেলেন তিনি। সেই সঙ্গে নতুন মোড়কে আপ কি বার ২০০ পার স্লোগানও তুলে দিয়ে গেলেন নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গে আরও জানিয়ে গেলেন দু সপ্তাহ পর ফের তিনি বাংলায় আসবেন।












Discussion about this post