যিনি নিজেই বাংলাদেশি, তিনিই আবার সন্দেহভাজন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে নালিশ করেছিলেন। আরও মজার বিষয় হল, এই ঘটনা খোদ এই বাংলার বুকে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শাসকদলের নেতা-নেত্রীরা যখন বাংলাদেশি ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করছেন, তখনই কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল বাংলাদেশি মডেল তথা অভিনেত্রী শান্তা পালকে। যিনি বাংলাদেশি নাগরিক হয়েও এই বাংলায় বহাল তবিয়তে কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রকাশ্যে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি তাঁর কাছে ভারতের সচিত্র পরিচয়পত্র, যেমন ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড পাওয়া গিয়েছে। এও জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে তিনি ভারতে এসেছিলেন, তারপর কোনও এক জাদুবলে তিনি পাকাপাকি ভারতে থেকে যান। নিজেকে কলকাতার গল্ফগ্রিনের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশি মডেল শান্তা পাল এক ব্যাক্তির নামে থানায় গিয়ে এফআইআর করে এসেছিলেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে দরবার করতেও খামতি রাখেননি তিনি। শান্তা পালের বিরুদ্ধে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই তাজ্জব করা কীর্তি সামনে আসছে।
জানা যায়, কলকাতায় ২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন বাংলাদেশি তরুণী শান্তা পাল। পার্ক স্ট্রিট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে তাঁর বাংলাদেশি পরিচয় সামনে আসে। যদিও তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, ‘বাংলাদেশি হিন্দু ধর্মালম্বী যে মডেল এখানে ধরা পড়েছেন, তাকে বিজেপি কি বলবে, অনুপ্রবেশকারী না শরণার্থী?’
ঘটনা হল, বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সেভেন সিস্টার্স ও শিলিগুড়ি চিকেন নেক নিয়ে নানা ধরণের মন্তব্য এসেছে বাংলাদেশ থেকে। কোনও সময় সেই মন্তব্য এসেছে কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠনগুলি থেকে, আবার কোনও সময় এসেছে খোদ মুহাম্মদ ইউনূসের মুখ থেকে। ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এই হুমকি ছোট করে দেখার বিষয় নয়। ফলে ভারত সরকারকে খুব গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করতে হবে। অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে জঙ্গিবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান পাল্টে গিয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ভারত সরকার বিভিন্ন রাজ্যকে অভিযান চালাতে নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ অন্যান্য রাজ্যে এই অভিযান চললেও পশ্চিমবঙ্গে তা ঠিকঠাক হচ্ছে না। আবার অন্যান্য রাজ্যে অবৈধ বাংলাদেশিদের ধরার জন্য অভিযান চালানো হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বাঙালিদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে বলে সরব হচ্ছেন। এই আবহেই কলকাতা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী তথা মডেল শান্তা পাল। যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ওই অভিনেত্রী ২০২২ সাল থেকে ভারতে রয়েছেন, তাঁর কাছে একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র চলে এল, অথচ কলকাতা বা রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা তা জানতেও পারলেন না? শান্তা পালকে ভারতের অভিবাসন দফতর কেন জানালো না তাঁর পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনি কি বাংলাদেশি গুপ্তচর? পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সচেতন হওয়ার কথা ছিল। এ ক্ষেত্রে কেন হল না? উঠছে প্রশ্ন। আবারও এও দাবি করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে অবৈধ বাংলাদেশি ইস্যুতে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে। কিন্তু শান্তা পাল হিন্দু, তাঁকে কি ইচ্ছা করেই ছাড় দিল ভারত সরকার? এই প্রশ্নও উঠছে। তবে শান্তা পাল নিয়ে বিতর্কের মাঝেই গোটা ভারত থেকে যে হাজার হাজার অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা ধরা পড়ছেন, সেটাই বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের জন্য প্রকৃত মাথাব্যাথার কারণ।











Discussion about this post