কাননের কামব্যাক হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে সেকেন্ড ইনিংস শুরু করলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের জন্যই ফেরানো হল তাঁকে। সাত বছর পর শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফেরানোর কথা ঘোষণা করেন সুব্রত বক্সি এবং অরূপ বিশ্বাস। আর ওই সাংবাদিক বৈঠকে বেশ কিছু মুহূর্ত নিয়ে তুমুল কাটাছেঁড়া চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
দুজনকে বরাবরই দেখা গিয়েছে রং মিলন্তি পোশাকে। এদিনও তার অন্যথা হয়নি। তবে যেটা ঘটলো, সেটি হল, শোভন এবং বৈশাখী ডায়াসের দুই প্রান্তে বসলেন। অর্থাৎ তাঁদের দুজনকে পাশাপাশি বসতে দেখা গেল না। তবে তৃণমূল ভবনে প্রবেশ করেন একসঙ্গেই। লিফটে উঠেন দুজনেই। তবে সাংবাদিক বৈঠকের সময় দুজনকে পাশাপাশি বসতে দেখা গেল না। অরূপ বিশ্বাস বলেন, একটা না একটা সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আসতেই হয়। এরপরই দেখা যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়কে এবং পরে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দলে স্বাগত জানান অরূপ বিশ্বাস এবং সুব্রত বক্সি। উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকেও। তবে গোটা সাংবাদিক বৈঠকে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও কথাই শোনা যায়নি। তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠকে একমাত্র প্রত্যেকের প্রকাশ ছিল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দিকেই। অনেকে বলছেন, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেভাবে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। তবে কি যে জল্পনা ছড়াচ্ছে, সেটাই সত্যি? শোভনের জন্যই বৈশাখীকে ফেরানো হল? শোভন চট্টোপাধ্যায় জানান, আমার শিরা, ধমনী সবেতেই তৃণমূল। আমার ওপরে যে দায়িত্বই দেওয়া হবে আমি তা পালন করব।। কয়েকদিন আগেই এন কে ডি এ-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। তখন থেকেই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে।
তৃণমূল ভবন থেকে বেরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কালীঘাটে যান শোভন-বৈশাখী। সেখানে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শোভনকে আবার দলে নিয়ে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, এটাই সবথেকে বড় পাওনা। আমরা আগামী দিনে কিভাবে দলের কাজে আসব মানুষের জন্য কাজ করব তার জন্য দলের রূপরেখা জানার চেষ্টা করব।প্রসঙ্গত, সাত বছর আগে তৃণমূল ছেড়ে ভেজে পেটে যোগদান করেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। তখনো সঙ্গে ছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কিছুদিনের মধ্যেই বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় শোভন-বৈশাখীর। এরপরই দল ত্যাগ করেন তারা। এরপর কেটে গিয়েছে সাত বছর। সাত বছর পর ফের ঘরে ফিরলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, গত ২৫ শে সেপ্টেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শোভন বৈশাখী। এরপর ১৫ ই অক্টোবর দার্জিলিংয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে শ্রবণ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন। তখন অবশ্য বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন না। এরপরই দেখা যায়, এনকেডি এর দায়িত্ব পান শোভন। শেষমেষ সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলে শোভন চট্টোপাধ্যায়। তবে সক্রিয় রাজনীতিতে কতটা সক্রিয় থাকবেন বৈশাখী বনদ্যোপাধ্যায়, সেটাই দেখার।












Discussion about this post