তৃতীয় বিশ্বৈর দেশগুলির যে কোনও ছোট-বড় শহরে ঢুকলেই দেখা যায় রাস্তার পাশেই জঞ্জাল বা আবর্জানার স্তুপ। মানব সভ্যতা যতই এগোচ্ছে, এই আবর্জনা ততই বিপদ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। তবে শুনলে আশ্চর্য হবেন, শুধু পৃথিবীতেই নয়, জঞ্জাল ছড়িয়ে পড়ছে মহাকাশেও। যা এক বড় বিপদ বয়ে আনছে মানব সভ্যতার জন্য।
ভাবতে পারছেন, অসীম মহাকাশ আজ আবর্জনায় ভরছে। আর এর জন্য দায়ি আমরা, অর্থাৎ মানবজাতি। সভ্যতার অগ্রগতি যতই হচ্ছে, ততই মহাকাশ গবেষণা উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। এখন ছোটখাটো দেশও মহাকাশে কৃত্তিম উপগ্রহ পাঠাচ্ছে। ফলে আমাদের পৃথিবীর চারদিকে চাঁদ ছাড়াও চর্কি কাটছে হাজার হাজার স্যাটেলাইট বা কৃত্তিম উপগ্রহ। আবার প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ মহাকাশে নিয়ম করে রকেট পাঠাচ্ছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, বর্তমানে বহু বেসরকারি সংস্থা রকেট বা স্যাটেলাইট পাঠাতে শুরু করেছে। একদিকে এর সুফল যেমন মানবজাতি পাচ্ছে, তেমনই কুফল ভোগ করছে মহাকাশ। কারণ দিনে দিনে মহাকাশ ভরে উঠছে আবর্জনা বা জঞ্জালে। এখনই সদর্থক কোনও ব্যবস্থা গ্রহন না করলে অদূর ভবিষ্যতে এর ফল ভুগতে হবে মানুষকে।
গত সপ্তাহেই রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইট ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। রেসার্স পি-১ নামে ওই রাশিয়ান পৃথিবী পর্যবেক্ষণ মহাকাশযানটি প্রায় ১০০-র বেশি টুকরো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই মহাকাশযানটি ২০২২ সালেই পাঠিয়েছিল রাশিয়া। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট কমান্ড স্টেশন স্বীকার করেছে রাশিয়ার ওই ধ্বংসপ্রাপ্ত ওই স্যাটেলাইটের টুকরো থেকে ক্ষতি হতে পারতো আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (আইএসএস)। সেই আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের মহাকাশযাত্রীদের এক ঘণ্টার বেশি সময়ের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আইএসএস যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে মহাকাশচারীরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পারেন। যদিও সেরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন মহাকাশচারীরা।
অপরদিকে, গত এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে আমেরাকার ফ্লোরিডা শহরের এক বাড়িতে অপ্রত্যাশিতভাবে মহাকাশ আবর্জনার একটি বড় টুকরো এসে পড়ে। ওই বাড়ির ছাদ ফুটো করে একেবারে ঘরের ভিতর ঢুকে যায়। যদিও সেই ঘটনায় কোনও হতাহত হয়নি। জানা যায়, গত ৪ মার্চ প্রায় ৩,৬৩০ কিলো ওজনের মহাকাশ আবর্জনা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন, সেই মহাকাশ আবর্জনার অংশটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সাথে সাথে জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাবে। কিন্তু আদতে তা হয়নি। স্মার্টফোনের আকারের একটি ছোট টুকরো সজোরে আছড়ে পড়ে ফ্লোরিডার নেপলস এলাকার একটি বাড়িতে। ওই বাড়ির মালিক আলেজান্দ্রো ওটেরো জানান, বিশাল শব্দ করে কিছু একটা তাঁর বাড়ির ছাদ ফুটো করে অন্দরমহলে এসে পড়ে। এমনকি মেঝেতেও ছিদ্র করে ওই বস্তুটি। তিনি অন্য ঘরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। পরে জানা যায়, ওই বস্তুটি মহাকাশ থেকে উড়ে এসে তাঁর বাড়িতে পড়েছে।
বিজ্ঞানীদের দাবি, ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে সতেরো হাজার কিমি গতিবেগে ছুটে বেড়ায় মহাকাশের আবর্জনা। বেশিরভাগেরই দৈর্ঘ্য এক সেন্টিমিটার বা তার কিছুটা বেশি। এই মহাকাশ আবর্জনার টুকরো অনেকসময়ই স্যাটেলাইটগুলিতে আছড়ে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাকাশে বর্তমানে প্রায় দশ লক্ষ আবর্জনার টুকরো ঘুরে বেড়াচ্ছে। আগামীদিনে এর পরিমান আরও বাড়বে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই মহাকাশ আবর্জনা কি। মহাকাশবিজ্ঞানীরা এই আবর্জানাকে কয়েকটি বিভাগে ভাগ করেছেন। প্রথমটি হল কার্যক্ষমতাহীন বা খারাপ হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট, যা লাল রঙে চিহ্নিত করা হয়। দ্বিতীয়টি হল রকেটের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া দেহাংশ, যা হলুদ রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে। তৃতীয়টি হল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ, যা নীল রঙে চিহ্নিত করা হয়। নাসা জানিয়েছে, ২০২২ সালেই প্রায় ১৬০০ টুকরো মহাকাশ আবর্জনা পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। ফলে এখনই এই মহাকাশ আবর্জনা পরিস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামীদিনে আমাদের প্রভুত বিপদ, এ কথা বলাই বাহুল্য।
বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে নিয়ে ভারতের সেনাপ্রধান মুখ খুলতেই কি নড়েচড়ে বসল, ইউনূসের জামাতী সরকার। ভারতের সেনাপ্রধানের আশ্বাস এবং বিশ্বাস ছিল দুই...
Read more












Discussion about this post