এসএসসি-র ২০১৬ সালের প্যানেলের চাকরিহারা শিক্ষাকর্মী অর্থাৎ গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের পুনরায় পরীক্ষায় বসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁদের বিশেষ ভাতা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করে নবান্ন। যা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের উপরে আগেই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এ বার সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়াল।
কলকাতা হাইকোর্টে ফের একবার ধাক্কা খেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এসএসসি-র ২০১৬ সালের প্যানেলের চাকরিহারা গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের যে বিশেষ ভাতা দিতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার। তাতে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এ বার সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে আগামী বছর ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত করে দিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। উল্লেথ্য, চাকরিহারা গ্রুপ সি কর্মীদের মাসে ২৫ হাজার টাকা এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নবান্ন। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। দাবি ছিল, এই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভাতা দেওয়ার উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। এবার সেই সময়সীমা আরও বাড়িয়ে দিলেন তিনি।
এই মামলায় প্রথমেই কলকাতা হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছিল, যাদের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার তারা কীসের ভিত্তিতে এই টাকা পাবেন? রাজ্য সরকার ঠিক কী ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাও জানতে চেয়েছিল উচ্চ আদালত। এসএসসি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর চাকরি হারিয়ে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছিলেন চাকরিহারারা। পরে অযোগ্য তালিকায় নাম না থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নতুন করে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হলেও শিক্ষাকর্মীদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি শিক্ষক-শিক্ষিকারা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেলেও শিক্ষাকর্মীরা সেই সুযোগ পাননি। কারণ দুর্নীতির তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল। তাঁদেরই ২৫ ও ২০ হাজার টাকা ভাতা দিয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকার ভোটের আগে ফায়দা লুটতে চেয়েছিল বলেই দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই আশায় জল ঢেলে দিল। অপরদিকে চলতি মাসের ৭ এবং ১৪ তারিখ এসএসসি-র যে পরীক্ষা হল, সেটা নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, নতুন প্রার্থীদের পূর্ণ নম্বর পেলেও ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, ইন-সার্ভিস প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার শিক্ষককে ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পরীক্ষায়। ফলে শূন্যপদ না বাড়ালে নতুন পরীক্ষার্থীরা আতান্তরেই থাকবেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, ইন-সার্ভিস প্রার্থীদের যে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া হচ্ছে, তার কোনও সরকারি গেজেটে উল্লেখ নেই। সবমিলিয়ে ভোটের মুখে প্রবল চাপে তৃণমূল সরকার।












Discussion about this post