একসময় ভারতের পুবে তাঁকাও এবং প্রতিবেশী প্রথম নীতির জোরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে হৃদ্যতা বেড়েছিল। দুই পড়শি দেশের মধ্যে সম্পর্কও হয়েছিল সুমধুর। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষমতায় বসা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ইতি টানার কাছাকাছি পরিস্থিতি চলে এসেছে। ৫ আগস্ট, ২০২৫, ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এক বিদ্রোহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের এক বছর পূর্ণ করল। বিগত এক বছরে এই পরিবর্তনের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী ভারত খুব ভালোভাবেই টের পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দিনটি নয়াদিল্লির আঞ্চলিক সংযোগ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল। কারণ ভারত সড়ক, রেল, জ্বালানি এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কগুলি বাংলাদেশের সীমান্ত জুড়ে একত্রিত করেছিল। বাংলাদেশকে ট্রানজিট করে ভারত মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর পূর্বের সাতটি রাজ্যে মালামাল পরিবহন করার পরিকল্পনা কার্যত চূরান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিগত এক বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এই গতিকে প্রভাবিত করেছে। দু-দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে তা অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যহত করেছে। ঢাকার সঙ্গে বেজিং এবং ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান মাখামাখি ভারতের জন্য, বিশেষ করে এই সংযোগ প্রকল্পগুলির জন্য একটি কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করেছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছেন, বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগের ভবিষ্যৎ রূপরেখাকে প্রভাবিত করার জন্য, ভারতকে এখনই কোনও পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু কি হতে পারে সেই পদক্ষেপ?
শেখ হাসিনার আমলে সোনালী অধ্যায় নামে পরিচিত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওই পর্যায়ে ঢাকার সাথে বহুমুখী যোগাযোগের জন্য প্রচুর বিনিয়োগ করেছিল নয়া দিল্লি। বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে রেল ও সড়ক যোগাযোগ, হাই স্পিড ইন্টারনেট সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রকল্পে ভারতের বিনিয়োগ এখন গভীর অনিশ্চিয়তায় রয়েছে। কারণ, এই প্রতিটি প্রকল্পই অনেক ক্ষেত্রে স্থগিত এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। ভারত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকেই দু-দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছিল। এখন তা তিক্ততার পর্যায়ে চলে গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক পদক্ষেপ এবং প্রকাশ্য বিবৃতি এই তিক্ততা আরও বাড়িয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের যে যে প্রকল্পগুলি স্থগিত রয়েছে সেগুলির দিকে একবার নজর দেওয়া যাক। আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগ, খুলনা-মোংলা রেল যোগাযোগ, সীমান্তবর্তী যাত্রীবাহী ট্রেন যেমন মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস বন্ধ থাকা, ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর রেল সম্প্রসারণ প্রকল্প, খুলনা-দর্শনা এবং পার্বতীপুর-কাউনিয়া রেললাইন ইত্যাদি। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংযোগ প্রদানকারী মৈত্রী পাইপলাইন, আশুগঞ্জে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল, ইন্টারনেট ট্রানজিট চুক্তিও প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এত ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়েও ভারত বড় কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। কেবলমাত্র ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা ও কয়েকটি স্থলবন্দর বন্ধ করা ছাড়া। এর থেকে অনুমান করা যায়, ভারত আগামী নির্বাচিত সরকারের দিকে তাঁকিয়ে আছে। অর্থাৎ, আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ভোটে জিতে যে সরকার আসবে, তাঁদের সঙ্গেই নয়া দিল্লি এই সমস্ত প্রকল্পগুলি নিয়ে আলোচনায় বসবে। কিন্তু যদি, জামাতের মতো কট্টর পাকিস্তানপন্থী কোনও সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে? কূটনৈতিক মহল মনে করছে, যেই বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসুক না কেন, ভারতকে বেশিদিন দূরে ঠেলে তাঁদের টিকে থাকা মুশকিল। কারণ, শেখ হাসিনাকে নিয়ে একবার ভোগা ভারত এবার বাংলাদেশে অতি সক্রিয়। ভারতের গোয়েন্দা ও গুপ্তচর সংস্থাগুলিও সক্রিয়। কার্যত ভারতের পেটের ভিতর ঢুকে থাকা বাংলাদেশ খুব বেশিদিন ভারত ও আন্তর্জাতিক চাপ সহ্য করতে পারবে না। যতই পাকিস্তান ও চিন তাঁদের পাশে থাকুক। যতই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সক্রিয় খাকুক। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির নিয়ন্ত্রক এখন ভারত। নরেন্দ্র মোদিই এখন দক্ষিণ এশিয়ার নেতা হয়ে উঠেছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post