রতনে রতন চেনে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। ইডি হেফাজতে থাকা তৃণমূল বিধায়ককে বৃহস্পতিবার হাজির করানো হয়েছিল কলকাতার বিচারভবনে। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের আরেক বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এদিন জামিন চেয়েও ইডির বিশেষ আদালত থেকে জামিন পেলেন না জীবনকৃষ্ণ। কিন্তু সতীর্থকে পাশে পেলেন। কি কথা হল শাসকদলের দুই বিতর্কিত বিধায়কের মধ্যে?
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তাঁকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সি। যদিও জামিনের আবেদন জানিয়ে আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। বৃহস্পতিবার সেই আবেদনের শুনানি ছিল কলকাতার বিচারভবনে ইডির বিশেষ আদালতে। সেখানেই জেলবন্দি সহকর্মীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার আরেক বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। জানা যাচ্ছে, এদিন জীবনকৃষ্ণকে আদালতে নিয়ে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে দেখা করেন স্ত্রী ও ছেলে। ফলে প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলেছেন তৃণমূল বিধায়ক। কিন্তু তাঁকে বড় স্বস্তি দিলেন সতীর্থ বিধায়ক। এদিন আদালতে ঢোকার মুখে বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক দাবি করেন তিনি নির্দোষ। জীবনকৃষ্ণর কথায়, আমি প্রান্তিক এলাকার এক বিধায়ক। আমার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ সব মিথ্যা। এমনকি মোবাইল পুকুরে ফেলার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
অপরদিকে, ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক কেন দেখা করতে গেলেন ধৃত জীবনকৃষ্ণের সঙ্গে। দলের নির্দেশেই কি গিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে হুমায়ুন কবীর জানান, একেবারেই পাশের কেন্দ্রের বিধায়ক, একই দলের বিধায়ক। তাই সতীর্থ হিসেবে আমার মনে হয়েছে তাঁর পাশে দাঁড়ানো। তাই আমি এসেছিলাম। হুমায়ুন কবীরের দাবি, তিনিও রাজনৈতিক কারণে জেল খেটেছেন। সেই সময়ও তাঁর সঙ্গে অনেকে জেলে দেখা করতে এসেছিলেন।
উল্লেখ্য এর আগে ২০২২ সালে দায়ের হওয়া মামলায় সিবিআই গ্রেফতার করেছিল জীবনকৃষ্ণ সাহারকে। সেবারও মোবাইল পুকুরে ফেলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। এবারও একই মামলায় গ্রেফতার করল ইডি। এবারও তিনি মোবাইলটি নর্দমায় ছুঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ। এদিন তাঁর জামিনের আর্জি জানিয়ে তাঁর আইনজীবী আদালতকে বলেন, সিবিআইয়ের মামলায় ইতিমধ্যেই উনি জামিন পেয়ে গিয়েছেন। তাই এবারও জামিন দেওয়া হোক। যার বিরোধীতা করেন ইডির আইনজীবী। তবে প্রভাবশালী তত্ত্বেই তাঁর জামিন হল না এদিন। আর তিনি যে প্রভাবশালী, সেটা তৃণমূল বিধায়কের ছুঁটে আসাতেই প্রমানিত।












Discussion about this post