ভাষা শহিদ মিনারের সামনের রাস্তায় বিকেলে নৈমিত্যিক যানজট। হঠাৎ কয়েকটি ছেলে দৌড়তে শুরু করল। কারও মুখ হেলমেটে ঢাকা তো কারও মুখে মাস্ক বা রুমালে ঢাকা। তাঁদের মুখে উচ্চকিত স্লোগান, ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘আওয়ামি লিগ জিন্দাবাদ’, ‘হাসিনা আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’।
আওয়ামী লীগের মিছিলের ভিডিও – ৩০-৪০ সেকেন্ডের অ্যাম্বিয়েন্স সহ….
বোঝাই যায় এটা আওয়ামী লীগের মিছিল। তাতে পথ চলতি বহু মানুষ নিদ্বিধায় যোগ দিচ্ছেন, তাঁদের মুখেও একই স্লোগান। প্রতি মুহূর্তে আয়তনে বাড়ছে সেই মিছিল। বড়জোর পাঁচ-সাত মিনিট। এরপরই সন্ধ্যার জনারণ্যে মিলিয়ে গেল সেই মিথিলেন লোকজন। আশেপাশের সবকিছু শান্ত। এটাই হল আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল। কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া আওয়ামি লিগ নেতাদের একটা বড় অংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ মুখিয়ে আছে। কিন্তু আদৌ কি তাই পরিস্থিতি বাংলাদেশে? আসলে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এবং কয়েকটি বড় শহরে যে ঝটিকা মিছিল বের হচ্ছে, তাতে মূলত অংশ নিচ্ছেন একেবারে তৃণমূল স্তরের কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণই নেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্তরের নেতৃত্বের। এমনকি তাঁরা খবরও রাখেন না দলের নীচু তলার কর্মীরা কিভাবে টিকে আছেন, তাঁরা কোথায় আছেন।
যদিও ঢাকার রাজপথে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে এক চিত্র। আওয়ামী লীগ ও তাঁদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করছেন, স্লোগান তুলছেন এবং বুক চিতিয়ে ঢাকার রাজপথ কাঁপাচ্ছেন। কখনও আগারগাঁও, কখনও ধানমন্ডি, কখনও গুলিস্তান কিংবা মতিঝিল, চিত্রটা প্রায় এক। জানা যাচ্ছে, এই সমস্ত ঝটিকা মিছিলে অংশ নিতে বাংলাদেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই ছুঁটে আসছেন একেবারে নীচু তলার কর্মীরা। কেউ আসছেন ভোরের ট্রেনে, কেউ বাসে, কেউ হেঁটে, কেউ বা অন্য কারও গাড়িতে লিফট নিয়ে। খেয়ে না খেয়ে, না ঘুমিয়ে, পুলিশের বাধা পেরিয়ে তারা অংশ নিচ্ছেন এই ঝটিকা মিছিলগুলিতে। এর সঙ্গে রয়েছে পুলিশি গ্রেফতারির আতঙ্ক। তবুও পিছু হটছেন না আওয়ামী লীগের কর্মীরা। তাঁরা সকলেই বলছেন, তাদের কাছে এই লড়াই কেবল রাজনৈতিক নয়—এটি দলের প্রতি বিশ্বাস, নেত্রীর প্রতি আনুগত্য এবং সংগঠনের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রকাশ। তবে কেউ কেউ আবার দলের সর্বোচ্চ নেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ক্ষুব্ধও। এই অংশের দাবি, ‘বাংলাদেশ রসাতলে যাওয়া’র জন্য, তাঁদের এই নির্যাতনের শিকার হওয়ার জন্য নেত্রী শেখ হাসিনাই দায়ী। তাঁদের সাফ কথা, আমরা তো চুরি-বাটপাড়ি করিনি। বরং বাটপাড় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি বার বার। কিন্তু নেত্রী আমাদের কথা কানেই তোলেননি। এমন অনেককে মন্ত্রী করেছেন, যা বাংলাদেশের মানুষ ভালো ভাবে নেননি। একনও বাংলাদেশের মানুষের একংশ আফশোস করেন, ‘আপা এক বার দুঃখপ্রকাশ করলেই অনেকের ক্ষোভ মিটে যায়। কিন্তু তিনি সে পথে হাঁটলেন না!
অনেকেই বলছেন, ঢাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা মেট্রো, পদ্মা সেতু-সহ শেখ হাসিনা একাধিক ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু হাসিনা যদি মানুষকে একটু ভোটটা দিতে দিতেন, চুরি-বাটপাড়িতে একটু লাগাম টানতেন তাহলে এই অবস্থার মুখোমুখি হতে হতো না বাংলাদেশকে। আজ অনেকেই ঢাকার মতো শহরে ব্যবসা করেও সংসার চালাতে পারছেন না। লোকের হাতে টাকাই নেই। যারা ১০ কেজি চাল কিনতেন, আজ তাঁরা ৭০০ গ্রাম চাল কিনছেন। তবুও তাঁরা নির্বাচন চান, আওয়ামী লীগকেও চান। কেন চান? তাঁদের জবাব হল, ‘সংস্কার-টংস্কার সব ভাঁওতা। এক বছর ওই বলে আমাদের কষ্ট দিয়েছে। এ বার যাওয়া লাগে সুদখোরদের! চুম্বকে এটাই এখন বাংলাদেশের হাল-হকিকৎ।












Discussion about this post