অস্থিরতা অব্যাহত বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে, সেই অস্থিরতার মাঝেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ভারতের। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এবার সেই নিষেধজ্ঞাকে ভারত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে বর্ণনা করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, যে যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। ভারত বাংলাদেশে দ্রুত এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়েছে।
উল্লেখ্য,এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা উদ্বেগজনক। গণতন্ত্র হিসেবে, ভারত স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক স্বাধীনতা হ্রাস এবং গণতান্ত্রিক স্থান সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত বাংলাদেশে দ্রুত, অবাধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে ভার্চুয়াল মাধ্যম সহ আওয়ামী লীগের সমস্ত রকম কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। এই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আওয়ামী লীগ ‘ফ্যাসিবাদী’ বলে অভিহিত করেছে এবং স্পষ্টভাবে বলেছে যে তারা এই নিষেধাজ্ঞাকে স্বীকৃতি দেবে না এবং গণতান্ত্রিকভাবে এর বিরোধিতা চালিয়ে যাবে।
আওয়ামী লীগের এক্স হ্যান্ডেলে আওয়ামী লীগ একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে , “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করছি। আওয়ামী লীগ ইউনূস সরকারের এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তকে মানে না। দলটি ভবিষ্যতেও নির্ধারিত পথে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।” দলটি আরও বলেছে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তাদের নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছিল এবং এখন এটি নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
এর মাঝে মনে করা হচ্ছে, ছাত্র সংগঠনগুলি এবং নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি যখন ঢাকায় ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ এবং রাস্তা অবরোধ করে আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞার দাবী জানিয়েছিল তখন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভারতের স্পষ্ট বার্তা গণতন্ত্রের মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে এবং রাজনৈতিক মতবিরোধ আইনের বলে নয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বাংলাদেশের।












Discussion about this post