গত বছরই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলো, আরিয়াদহের ত্রাস জয়ন্ত সিংহ এর নাম। তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে চর্চা শুরু করে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। বিচারের নামে সালিশি সভায় নির্মম অত্যাচারের স্মৃতি এখনও যেন স্পষ্ট। এবার সেই আড়িয়াদহের ত্রাস জয়ন্ত সিংহের বেআইনি সাদা অট্টালিকা ভাঙার কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্ট এর। তবে কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ বলবৎ না হওয়ায় তৃণমূল পরিচালিত পৌরসভার ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে।
উল্লেখ্য, গত বছর আড়িয়াদহে মা-ছেলেকে নৃশংস ভাবে মারধর করার অভিযোগ ওঠে জয়ন্ত সিংয়ের বিরুদ্ধে ৷ তাঁকেই এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বলে দাবি করা হয় ৷ তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে গ্রেফতার করে বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে ৷ এরপরসেই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা জয়ন্ত সিংয়ে নাম জড়ানোতে গ্রেফতার করা হয় আরিয়াদহের ত্রাস জয়ন্ত সিংহ কে৷
সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের শুনানিতে, কামারহাটি পুরসভার আইনজীবীকে কড়া ভর্ৎসনা করে বিচারপতির। বিচারপতির তরফ থেকে স্পষ্ট করা হয়, বিগত ৫ বছর ধরে, ওই অঞ্চলে কাজ করা সমস্ত পুরসভার আধিকারিকদের জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। মামলার শুনানিতে ওই জমির আসল মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে আদালতে জানানো হয়েছে পুরসভার আইনজীবীর তরফে । এই প্রেক্ষিতে বৈধ অনুমোদন নিয়ে বাড়ি তৈরি করা না হলে তা ভেঙে খেলার মাঠ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। আদালতের এই রায়কে যথাযথভাবে পালন করার আশ্বাস দেন কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা। তবে সেখানেও শাসক দলের নেতা কে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির।
আরিয়াদহ এই ভয়ংকর ঘটনার পর থেকেই সেখানকার মূল পান্ডা জয়ন্ত সিংহের নাম বারংবার উঠে এসেছে । তারপর তার সঙ্গে তৃণমূলের নেতাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জোর চর্চাও শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে। আর এবার সেই জয়ন্ত সিংহের অট্টালিকা ভাঙ্গার নির্দেশ দেওয়ার পরেও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বলবৎ করা হলো না আর সেখানে তৃণমূল পরিচালিত পৌরসভার মদত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই আরিয়াদহ কান্ডের মূল পান্ডা জয়ন্ত সিংহের বাড়ি ভেঙে ফেলার কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। যেখানে আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চার সপ্তাহের মধ্যে এই জয়ন্ত সিংহের বাড়ি ভেঙে ফেলতে হবে। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও এখনও পর্যন্ত সেই কাজ শুরু হয়নি বলেই সূত্রের খবর। পৌরসভার গাফিলতি নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন, সেখানে কেন পৌরসভা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এই কাজ করছে না, কেন তাদের এই গাফিলতি? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নেমেছে বিরোধীরা।
যখন হাইকোর্টের নির্দেশকে অমান্য করার একাধিক অভিযোগ আসছে পৌরসভা কে কেন্দ্র করে তখন পৌরসভার থেকে বেশ কিছু যুক্তি দেখানো হয়েছে। কামারহাটি পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি সুবিশাল অট্টালিকা , এটি ভাঙ্গার মত পরিকাঠামো আপাতত নেই। আর বাড়ি যে জায়গাতে অবস্থান করছে সেটি যথেষ্ট সংকীর্ণ , তাই সেখানে বাড়ি ভাঙার জন্য যে যন্ত্র বা সরঞ্জাম তা সেখানে নিয়ে যাওয়া একেবারেই সম্ভব নয়। যার ফলে আদালতের নির্দেশের পরও পৌরসভার হাত-পা বাঁধা। এখনো পর্যন্ত বাড়িতে ভাঙার কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি পৌরসভার।
কিন্তু পৌরসভার এই যুক্তির বিরুদ্ধে গিয়ে, বিরোধীদের একাংশ বলছে, আগামী দিনে আদালতের নির্দেশ মেনে যদি এই কাজ সম্পন্ন না করা হয় পৌরসভার উদ্যোগে তবে ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে চলেছে তৃণমূল পরিচালিত কামারহাটি পৌরসভার আধিকারিকদের। কেউ কেউ বলছেন আদালতের নির্দেশ মেনে কিভাবে জয়ন্ত সিংয়ের সুবিশাল বাড়ি ভাঙ্গা হবে সেটা আদালতের দেখার বিষয় নয়। আদালত নির্দেশ মেনে কাজ করতে হবে পৌরসভাকে।
আদালতের নির্দেশের পর যখন যুক্তি তর্ক দৃঢ় হতে শুরু করেছে পৌরসভার ভূমিকা নিয়ে তখন প্রশ্ন উঠছে তবে কি, তৃণমূল পরিচালিত পৌরসভা এই সমস্ত যুক্তি দেখিয়ে, আড়িয়াদহে ত্রাস জয়ন্ত সিংকে রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে?












Discussion about this post