চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন রবিবার। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদের সঙ্গে ূৈছক করে আগামীদিনে কী পদক্ষেপ করা যেতে পারে অথবা কোন পরিস্থিতিতে চাকরিতে বহাল থাকা যায় এই সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে বলেই দাবি। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়।
ফের একবার বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হলেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। রবিবার বেলায় চাকরিহারাদের কয়েকজন প্রতিনিধি সাংসদের বাড়িতে গিয়েছিলেন বলেই খবর। প্রসঙ্গত, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় হলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি, যিনি এই সংক্রান্ত মামলায় প্রথম রায় দিয়েছিলেন। বর্তমানে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন,আর প্রাক্তন বিচারপতি এখন বিজেপি সাংসদ। ফলে চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রতিনিধিরা চাইছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পরামর্শ নিতে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি গিয়েছে। সেই ঘটনায় তোলপাড় হয় রাজ্য-রাজনীতি। চাকরি হারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত একটা ব্যবস্থা করতে পারলেও রাজ্য সরকার অশিক্ষক কর্মচারীদের জন্য কোনও ব্যবস্থা করতে পারেনি। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। তবুও চাকরিতে বহাল থাকার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের একাংশ। কারণ আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যা দুর্নীতি হয়েছে তাতে সুপ্রিম সুপ্রিম কোর্টে পুনরায় আপিল করলেও রায়ের খুব একটা হেরফের হবে না। কাল সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে , নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে হবে। আর সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আগে থেকেই চিহ্নিত অযোগ্য প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের অবস্থান ঠিক কি ? সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পেলেও অশিক্ষক কর্মীদের জন্য শূন্য হাতেই আছে। এই পরিস্থিতিতে নবান্ন তাদের জন্য বিশেষ ভাতা ঘোষণা করেছে। গ্ৰুপ সি কর্মীদের জন্য মাসিক ২৫ হাজার এবং গ্ৰুপ ডি কর্মীদের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীদের একাংশ এখনও আন্দোলন করে চলেছেন। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে বিকাশ ভবনের সামনে থেকে রবিবার সকালে আন্দোলনকারীরা সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্কে অবস্থান কর্মসূচি সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। এরপরই আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল রবিবার সল্টলেকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদের সঙ্গে তাঁদের বেশ কিছু সময় আলোচনা করেন তাঁরা। আগামী দিনে কী পদক্ষেপ করা যেতে পারে অথবা কোন পরিস্থিতিতে চাকরিতে বহাল থাকা যায় এই সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।
ওই বৈঠক শেষে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের হাতে। সুপ্রিম কোর্ট মনে করলে পূর্ণমূল্যায়ণ করতে পারে, নাও করতে পারে। সবই সুপ্রিম কোর্টের হাতে। যোগ্য চাকরিহারাদের কোনও দোষ নেই। তাঁরা পরিস্থিতির শিকার। সেই কথা সুপ্রিম কোর্টে বোঝানো গেলে রায়ের রিভিউ নিয়ে ভাবতেও পারে সর্বোচ্চ আদালত।
উল্লেখ্য, চাকরিহারাদের বক্তব্য, কীভাবে যোগ্যদের চাকরি বাঁচানো যায়, কারা দুর্নীতির সুবিধা নিল, কারা নিল না, সেইসব বিষয় দেখার চেষ্টা হচ্ছে। যারা পরীক্ষা দিয়ে নিজেদের যোগ্যতার বিচারে চাকরি পেল তাঁদের কেন চাকরি যাবে? এই মামলায় প্রথম থেকেই এই প্রশ্নগুলোই উঠে আসছে। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দুর্নীতির প্রসঙ্গ এড়িয়ে ভাতা ও অনুদানের উপর ভরসা করছেন। কখনও কখনও আন্দোলনরত চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের ওপর পুলিশে নির্যাতন হয়েছে। আবার শাসক দলের পক্ষ থেকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া চলছে বলেও অভিযোগ। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীদের একটা বড় অংশ যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছে। কিন্তু দুর্নীতির পরিমাণ এতটাই যে কলকাতা হাইকোর্ট ও পরে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টও যোগ্য ও অযোগ্যদের প্যানেল আলাদা করতে পারেনি। ফলে সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করতে হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাজ্যের শিক্ষা দফতর এটাই অস্বীকার করে চলেছে বারবার। রাজ্যের বক্তব্য তারা আবার আবেদন করবে সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটের আগে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ভাতা চালু করার কৌশল বলেই মনে করছে বিরোধীরা।












Discussion about this post