বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার নিয়ে মাতামাতি করছে। কোন আওয়ামীলীগ নেতাকে শাস্তি দেবেন, কাকে নিষিদ্ধ করবেন, কার বিচার করার প্রয়োজন… এই নিয়ে যখন ব্যস্ত, তখন বাংলাদেশের ব্যবসার পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। শিল্প প্রায় ধ্বংসের পথে। এটি শুধু মুখের কথা নয়। সঙ্গে রয়েছে তথ্য এবং পরিসংখ্যান। এদিকে শিল্প যখন ধ্বংসের মুখে, তখন সরকারের কোনও উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বাড়ছে বেকারত্ব। সরকার যে কতটা উদাসীন, সেটাই এখন আলোচিত হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। এদিকে তিনি বিদেশ সফর করছেন। দেশে সংকটকালীন পরিস্থিতিতে তিনি জাপান সফরে গিয়েছেন।
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে প্রায় ১০ মাস হয়ে গেল। কিন্তু শিল্পের উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং দিনে দিনে সংকটে পড়ছে শিল্প। এর সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে বাড়ছে বেকারত্ব। বাংলাদেশের একটি সংবাদ মাধ্যম কালের কন্ঠ একটি পরিসংখ্যান দিতে গিয়ে বলছে, মৃত্যুমুখী শিল্প বেকারত্ব চরমে। তারা বলছে, এক বছরে বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে তিন লক্ষ ৩০ হাজার। বন্ধ রয়েছে ১৭৭ টি কারখানা। কাজ হারিয়েছেন প্রায় লক্ষাধিক। ২১ বছরের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ। এমনকি এই তথ্য তারা নিশ্চিত করছে, যেখানে বলা হচ্ছে, ব্যাঙ্ক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়া বেড়েছে ৬০ শতাংশ। সবটাই হয়েছে গত এক বছরে। মূলত ১০ মাসে। যেখানে ক্ষমতায় রয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরিচালনা করছেন নোবেল জয়ী মোহম্মদ ইউনূস। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কি দায়িত্ব সহকারে গোটা দেশটিকে সংকটে ফেলছেন। যেভাবে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে এই প্রশ্নগুলি উঠছে। কারণ ব্যবসায়ীদের বেড়েছে ঋণের সুদ। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা ঋণ নিলে সুদ ১৬ শতাংশ দিতে হবে। উৎপাদন হার কমেছে। দেশের ৬০ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে না। কারণ জ্বালানি সমস্যা। গ্যাস নেই, এমনকি ব্যাংকে সুদ বেড়েছে। ২০২৩ সালে ১৭৮ শতাংশ এবং চলতি বছরে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাসের মূল্য বেড়েছে। ফলে নাস্তানাবুদ ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি গোটা বাংলাদেশে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। ফলে সরকার কি ভূমিকা পালন করছে, এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই খবর, তিনটি শিল্প এলাকায় সাত মাসে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৯৫ টি কারখানা। এর ফলে প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। জানা যায়, কারখানার মালিক এবং শিল্পপতিরা বলছেন, দেশে শিল্প এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এমন সংকটে গিয়ে পৌঁছেছে, যেখানে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ দেখা যেতে পারে। এমনকি জ্বালানির কারণে শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধের মুখে। এই সংকট তৈরি হওয়ার কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে। সেটি হল গ্যাস সরবরাহের অভাব। সরকার গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে ওই কারখানাগুলো ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্ষমতায় চলছে। যাতে কোনভাবেই লাভ হচ্ছে না। পরিসংখ্যান বলছে, ১২২টি কারখানায় শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বেতন দিতে পারেনি। আরেকটি কারণ রয়েছে এই সংকটের পিছনে, সেটা বলা যেতে পারে বাংলাদেশ সরকার নিজেই এই সমস্যা ডেকে নিয়ে এসেছে। ভারত-বাংলাদেশ সংঘাত। ভারত বিরোধিতা করে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মেরেছে বাংলাদেশ সরকার। বেশ কিছু বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে ভারতের তরফে। ফলে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। সাধারণ মানুষ চাইছে, গণতান্ত্রিক উপায়ে একটি নির্বাচিত সরকার এসে দেশের হাল ধরুক। এখন দেখার, বাংলাদেশের হাল কোথায় গিয়ে ঠেকে।












Discussion about this post