বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের পরবর্তী ক্ষমতা কি ওবায়দুল কাদেরের হাতে? দলটির পরবর্তী সভাপতি ওবায়দুল কাদের? শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ কি সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে? আসলে এই প্রশ্নগুলো উঠছে যখন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে নির্বাসিত। এবং আপাতত দলটির সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ রয়েছে। তখন দেশে ফের সক্রিয় হওয়ার জন্য যখন আহমেদের নানারকম পরিকল্পনা করছে তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটা উঠছে তবে কি দলের পরবর্তী নেতৃত্ব ওবায়দুল কাদের। কিন্তু হঠাৎ কেন এই প্রশ্নটা সামনে আসলো তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি ভাবছে দলনেত্রী শেখ হাসিনা এই প্রশ্নটা এখন প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে। বাংলাদেশের ক্রান্তি কাল কাটিয়ে আওয়ামী লীগ যখন ফের সেদেশে সক্রিয় হবে সেই সময় আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা নিজের বয়সজনিত কারণে কি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে ওবায়দুল কাদেরকে দলের ক্ষমতায় বসাতে চাইছেন। সরকার পতনের পর দশ মাস কেটে গিয়েছে আর হঠাৎ করেই বর্তমানে এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তিনি প্রকাশ্যে এসে বিবৃতি দিলেন। অর্থাৎ ঠিক যখন বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয় বাংলাদেশ জুড়ে ঠিক সেই সময়ই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই বিবৃতি ওবায়দুল কাদেরের। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরে এসে ওবায়দুল কাদেরের এই প্রকাশ্য বিবৃতি অনেকেই ভালো চোখে দেখছেন না। দলের নেতৃত্ব কে মানা বা না মানা নিয়েও একাধিক জল্পনা ছড়িয়ে ছিল।
এর পরে দেখা গেল ওবায়দুল কাদের তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতেন এবং অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি কি করেছিলেন কিভাবে নিজেকে রক্ষা করেছিলেন সেই সম্বন্ধে বলতে গিয়ে তিনি জানান, আন্দোলন চলাকালীন ৫ ঘন্টা তিনি শৌচালয় লুকিয়েছিলেন এরপর বিক্ষুব্ধ ছাত্ররাই তাকে সেই শৌচালয় থেকে উদ্ধার করে সেফ জোনে পাঠিয়েছিলেন অর্থাৎ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছিল সে আন্দোলনকারীরাই নাকি তাকে রক্ষা করেছিল।এই ধরনের একটি গল্প সামনে এনেছিলেন তিনি। জানিয়ে শুরু হয়েছিল তুমুল আলোচনা সমালোচনা।
এবার বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের এখনও নিজেকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই দাবি করেছেন। এই সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন উঠে আসে কখন তারা আঁচ করতে পেরেছিলেন যে পরিস্থিতি সরকার পতনের দিকে এগিয়ে চলেছে?
ওবায়দুল কাদের জানান, “আভাস ইঙ্গিতটা অবশ্যই ছিল। তবে এটা নিয়ে নানা জনের নানা অভিমত ছিল। এটা আসলে কী ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, সেটা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, তারপরে সিভিল ব্যুরোক্রেসি, আমাদের পার্টির এমপি, মিনিস্টার অনেকেই ছিলেন। এ ধরনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।তবে একেবারেই পাঁচই অগাস্টে যেভাবে একটা বিস্ফোরণের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, অত্যন্ত অর্গানাইজড ওয়েতে, সেটা সেভাবে চিন্তা করা হয়নি। আমার মনে হয় ইন্টেলিজেন্স এই বাস্তবতাটাকে যথাযথভাবে বোঝাতে সক্ষম হয়নি।” তার কথায় উঠে এসেছে গোয়েন্দাদের ঘাটতির বিষয় এসেছে।
তাহলে কি গোয়েন্দাদের ঘাটতি ছিল, পরিস্থিতি বিবেচনা করতে ব্যর্থতা ছিল -তা পর্যালোচনা হয়েছে কিনা?এসব প্রশ্নে ওবায়দুল কাদেরের জবাবে আওয়ামী লীগের এতদিনের ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বের’ অবস্থানই উঠে এসেছে। অর্থাৎ হঠাৎ করেই ওবায়দুল কাদের যখন বারংবার প্রকাশ্যে আসছেন নিজেকে আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দাবি করে অভ্যুত্থান পরবর্তী ক্ষমতাচ্যুত দলটির মনোভাব নিয়ে আলোচনা করছে তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগে ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান নিয়ে।












Discussion about this post