ঈদের আগেই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার। কিন্তু কেন এই ভাষণ? এবং তিনি কেনই বা এই সময় সমসাময়িক বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুগুলিকে নিয়ে তিনি কথা বললেন? যেমন নির্বাচন বন্দর ও করিডোর ইস্যু নিয়ে কথা বললেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণকে কেন্দ্র করে ঈদের আবহেও আতঙ্ক ছড়ালো বিভিন্ন স্তরে। পাশাপাশি হঠাৎ করে কেনই বা ঈদ উপলক্ষে সরকারি পর্যায়ে দশ দিনের লম্বা ছুটি ঘোষণা করলো এই সরকার? কি উদ্দেশ্য অন্তর্বর্তী সরকারের? কি করতে চলেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে? ইউনূসের এই কার্যকলাপে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন পূর্ববর্তী কোনো সরকারের আমলে দেখা যায়নি ঈদকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে। এই প্রসঙ্গে একমাত্র ব্যতিক্রম বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। শুধু ঈদের আবহাওয়ায়ী নয় সে দেশে স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে গত ২৫ শে মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন ইউনুস। হঠাৎ করে এই উৎসবের আবহে কেন বিতর্কিত ইস্যুগুলি নিয়ে কথা বললেন প্রধান উপদেষ্টা? কেন সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সকলের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি করলেন?
উল্লেখ্য শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের এরপরই তৎক্ষণাৎ বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে সভাপতিত্ব করেন এই বৈঠকের। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া বক্তব্যে শব্দচয়ন রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা অতিক্রম করেছে বলে অভিযোগ তুলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এমনকি এরপর ওইদিন মধ্যরাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে। এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণ পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতভাবে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে যে, পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে প্রদত্ত তার বক্তব্য প্রসঙ্গকে অতিক্রম করে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পরিণত হয়েছে। এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি বন্দর, করিডর ইত্যাদি এমন সব বিষয়ে অবতারণা করেছেন যা তারই ভাষায় অন্তর্বর্তী সরকারের ৩টি ‘ম্যান্ডেটের’ মধ্যে পড়ে না। ভাষণে তিনি শব্দচয়নে রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা অতিক্রম করায় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা এই ভাষণে নির্বাচন ইস্যুতে কথা বললে সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, চলতি বছর ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে না। আর তখনই বিএনপির তরফে প্রশ্ন কেন চলতি বছর ডিসেম্বরে নির্বাচন সম্ভব নয়, এর কোন সুনির্দিষ্ট কারণ প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে স্পষ্ট হয়নি। বিএনপির তরফ থেকে জানানো হয় সভায় প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে সময়সীমা প্রস্তাব করেছেন তা পর্যালোচনা করে সভা মনে করে যে, এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন হলে একদিকে আবহাওয়ার সংকট এবং অন্যদিকে রমজানের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা ও কার্যক্রম এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যা নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার আকস্মিক জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ, এবং সেই ভাষণের বিভিন্ন প্রসঙ্গ ও শব্দচরণ সবটাই ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে বিএনপি শিবিরে।












Discussion about this post